শিরোনাম

পিরোজপুর, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে করা অঙ্গীকারের কথা জানান।
পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি পিরোজপুরের এক সময়ের দানবীর মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সোবহান সাহেবের পুত্র। ১৯৮১ সালে কলেজ ছাত্র দলে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপরে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি শিক্ষক নেতা হিসেবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বরিশাল বিভাগীয় আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের পিরোজপুর জেলা সংবাদদাতা মো.মিজানুর রহমান।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন: আমাদের দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণে ইতোমধ্যেই ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এই ৩১ দফার ভিত্তিতে কাজ করব। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ডসহ ৮টি মৌলিক বিষয়ের উপরে বেশি জোর দেবো। এ অঞ্চলের এক ফসলি জমি দু'ফসলি এবং দু'ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করব।
পিরোজপুর যেহেতু নদীবেষ্টিত এলাকা, তাই ঝড় -জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেতে বেড়িবাঁধগুলো পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা করব। পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশে মাছ সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ। মৎস্যজীবীদের জন্য ট্রলার এবং জালের ব্যবস্থা করব। যাতে মৎস্যজীবীদের দাদন দিয়ে বা চড়া সুদে টাকা নিয়ে সাগরে যেতে না হয়।
এছাড়া বলেশ্বর নদীর তীরে একটি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করব। এতে করে এ অঞ্চলে শিল্প কল-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বেকার সমস্যার দূর হবে। ঢাকাতে আমাদের এলাকার অনেক গার্মেন্টস মালিক আছেন তাদেরকে পিরোজপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি করতে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত পিরোজপুর গড়তে কাজ করে যাব।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : দেখুন, আমাদের দল বিএনপি সব সময়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া নীতিমালা অনুযায়ী নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। আমার আসনে আমার কর্মীরা নীতিমালা মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : আমার দল এবং আমি জুলাই সনদের বিপক্ষে নই, আমরা এর পক্ষে। এই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি।
বাসস: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বাংলাদেশ, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত সুন্দর সাবলীল এই বাংলাদেশে আমরা সকলে মিলেমিশে উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করতে চাই। দীর্ঘদিন আমরা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছি। আশা করি এবারের নির্বাচনে ভোটাররা আমাদের এই দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম ও ত্যাগের কারণে ধানের শীষ কে বিজয়ী করবে।
আর ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথ থেকে উঠে আসা মানুষ আমি, তাছাড়া আমি একজন শিক্ষক, আমার বয়স, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আচরণ, পারিবারিক পরিচিতি, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
ইনশাআল্লাহ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাই জয়ের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী।
পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি এবং জামায়াত থেকে শুধুমাত্র দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ধানের শীষ প্রতীক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দেশের দক্ষিণের নদী-খাল বেষ্টিত জেলা পিরোজপুর। এ জেলায় রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। এরমধ্যে পিরোজপুর- ১ (১২৭) সদর সংসদীয় আসনটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসন গঠিত।
এ আসনে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন। তবে এখানে তৃতীয় লিঙ্গের কোন ভোটার নেই। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৬৬ টি।