বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৯

‘প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করব’- চাঁদপুর ৩-এর গণফোরাম প্রার্থী সেলিম আকবর

অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর। ফাইল ছবি

চাঁদপুর, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): চাঁদপুর ৩ ( সদর- হাইমচর) আসনের গণফোরাম প্রার্থী সেলিম আকবর বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি চাঁদপুরকে বৈষম্যমুক্ত করে প্রত্যেক নাগরিকের সমান সুযোগ তৈরির জন্য কাজ করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

চাঁদপুর ৩ ( সদর-হাইমচর) আসনে গণফোরামের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি সাবেক জেলা গণফোরামের সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়ামের সদস্য। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। 

তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল। 

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?

সেলিম আকবর: আমার প্রথম অঙ্গীকার হচ্ছে বৈষম্য দূর করা। এখানে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা না করে প্রত্যেক নাগরিক যাতে সমান সুযোগ পায় আমি তার জন্য কাজ করতে চাই। দলীয় বিবেচনায় কেউ যাতে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে চাই। বিশেষ করে আমার নির্বাচনি এলাকায় ঘুষ দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বন্ধ করা আমার দলের প্রথম লক্ষ্য। পার্লামেন্টসহ সব স্তরে বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ 
তৈরিতে কাজ করতে চাই। 

নির্বাচনি এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বরাদ্দের সমবণ্টন নিশ্চিত করতে চাই। এটা আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে চাই।

বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী? 

সেলিম আকবর: নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা সবাই তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলবো। আচরণবিধি মেনে নির্বাচনি প্রচারণা করেছি। ভবিষ্যতেও করে যাব।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি ?

সেলিম আকবর : জুলাই সনদ-এর গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে। কিন্তু এটা আরও স্পষ্ট করা দরকার ছিল। একই সাথে এই ভোটের সাথে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারে। সঠিকভাবে ভোটটা হয়ত দিতেও পারবে না অনেকে। কারণ এটা নিয়ে বিশদ প্রচার-প্রচারণা হয়নি। কারণ মানুষ জানে না, কেন ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। 

আমরা চাই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হোক। যখন জুলাই সনদ তৈরির জন্য আলোচনা হয় তখন আমাদের দলের পক্ষ থেকে কিছু সংশোধনী ছিল। বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে যাতে সংবিধানটি সংস্কার হয় সে বিষয়ে আমাদের কিছু নোট অব ডিসেন্ট ছিল। আমাদের কিছু প্রস্তাবনাও ছিল। এখন যদি আমাদের সেই প্রস্তাবনাগুলি থাকে তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো যদি পরিবর্তন করে থাকে তাহলে আমাদের কথা আছে। কিন্তু আমরা জুলাই সনদের পক্ষে।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? 

সেলিম আকবর: বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, সন্ত্রাস চাঁদাবাজবিহীন বাংলাদেশ তৈরি হবে বলে আশা করছি। যাতে করে মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক এটাই  আমাদের প্রত্যাশা।

আমরা চাই বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে আমরা যেমন আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুফল নিতে পারি নাই,  তেমনি আন্দোলনের পরে আমরা যে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম , সেটাও আমরা পাই নাই। আমরা মনে করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ তৈরি হবে। প্রত্যেকে তার সমান অধিকার ফিরে পাবে। চাকরি ক্ষেত্রে কোন দলীয় বিবেচনায় যেন নিয়োগ না হয়, অফিস আদালতে কোথাও দলীয় বিবেচনা যাতে কাজ না করে,  ঘুষ দুর্নীতি যাতে বন্ধ হয় এবং সাংবিধানিক কোনো পদে দলীয় বিবেচনায় যাতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া না হয় সেটি নিশ্চিত হবে বলে আশা করি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ৩ আসনে বিভিন্ন দলের মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া, গণফোরামের সেলিম আকবর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জয়নাল আবদিন শেখ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এ. এইচ. এম. আহসান উল্লাহ। 

এই আসনে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ১১৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৪ জন। হিজড়া ভোটার আছেন ২ জন। এই কেন্দ্রে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৫ টি।