শিরোনাম

চাঁদপুর, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেছেন, ’চাঁদপুরবাসী যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে আমি তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করতে চাই। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে পরবর্তী জেনারেশনকে বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে চলছে নির্বাচনি প্রস্তুতি। প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চলছে নানা সমীকরণ। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী হেভি ওয়েট প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে।
চাঁদপুর ৩(সদর-হাইমচর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। দীর্ঘ ২৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি। ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
তার এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কি?
শেখ ফরিদ: আমরা অনেকগুলো সমস্যা চিহ্নিত করেছি। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে প্রথমেই চাঁদপুরবাসীকে সাথে নিয়ে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করতে চাই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না করতে পারলে পরবর্তী জেনারেশনকে বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে যাবে। তাই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মনোযোগ দেবো। এই বিষয়ে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমরা দুটি ইপিজেড করার চেষ্টা করবো। দুটি ইপিজেড হলে চাঁদপুরে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এর মধ্যে একটি হাইমচরে এবং আরেকটি চাঁদপুর সদরে। আমরা যদি ইপিজেড নির্মাণ করতে পারি, আমার বিশ্বাস চাঁদপুরবাসীর আর কর্মসংস্থানের অভাব হবে না।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?
শেখ ফরিদ: আমি নিজেই যেখানে আচরণ বিধি মানি সেখানে নেতাকর্মীরা তো অবশ্যই আচরণ বিধি মেনে চলবে এবং মানতে বাধ্য। সর্বোপরি আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা চাই না কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন হোক। আমরা চাই বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। যাতে সবাই বলতে পারে দীর্ঘদিন পর একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি ?
শেখ ফরিদ: আমাদের মহাসচিব তো স্পষ্ট বলেছেন, যে আমরা হ্যাঁ’র পক্ষেই ভোট দেবো। এর বাইরে তো আমাদের বলার কিছু নেই। আমাদের দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী হিসেবে মহাসচিব বলেছেন। তাই আমরা সেটা এখন ফলো করবো। আমরা এর বাইরে কোনো কিছু চিন্তা করব না।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি ?
শেখ ফরিদ: আমি প্রত্যাশা করি সুন্দর একটি নির্বাচন হবে। জনগণের কাছে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, একটিবার আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন। আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে চাঁদপুরবাসীকে সাথে নিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। সব সমস্যা হয়তো একদিনে সমাধান করা যাবে না, সমস্যাগুলো পয়েন্ট আউট করে ক্রমান্বয়ে চেষ্টা করব সমাধান করতে। আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক ধাপ এগিয়ে যাবে ।
চাঁদপুর হাইমচর আসনে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩৩১ জন ভোটার। এরমধ্যে ৩৫ ভাগ তরুণ ভোটার আছে। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমার একটি মেসেজ হচ্ছে, ‘আমরা চাঁদপুরে দুইটি ইপিজেড করবো। এই ইপিজেড কার জন্য করবো? এই ইপিজেড আপনাদের জন্য হবে। পড়ালেখা শেষ করে এই ইপিজেডে যাতে আপনাদের কর্মসংস্থান হয় সেই ব্যবস্থা করবো।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ৩ আসনে বিভিন্ন দলের মোট সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া, গণফোরামের সেলিম আকবর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জয়নাল আবদিন শেখ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টেরএ. এইচ. এম. আহসান উল্লাহ।
এই আসনে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯২ জন ভোটার আছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ১১৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৪ জন। হিজড়া ভোটার আছেন ২ জন। এই কেন্দ্রে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৫ টি।