শিরোনাম

রাজশাহী, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, এলাকার চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করবো।
নির্বাচন নিয়ে প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি, গণভোটে অবস্থানসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এ প্রার্থী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) রাজশাহী জেলা সংবাদদাতা ওমর ফারুক।
বাসস: নির্বাচনে আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রতিশ্রুতি কী?
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: আমি রাজশাহীর বেশ কিছু এলাকার চিহ্নিত সমস্যা আছে, সেগুলোর সমাধান করবো। যেমন ধরেন রাজশাহীতে একটা সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে কিন্তু এখানে বেড সংখ্যা মাত্র ১২০০, রোগী ভর্তি থাকে ৩ হাজার। অনেক রোগীকে ফ্লোরে থাকতে হয়। এ জন্য আমরা এই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেড সংখ্যা কমপক্ষে ৩ হাজারে উন্নীত করবো ইনশাআল্লাহ।
বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে যাতে প্রত্যেকটা পেশেন্ট মানসম্মত ওষুধপত্র এবং পথ্য পেতে পারে। এছাড়া রাজশাহীতে একটা সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। রাজশাহীতে মা ও শিশু হাসপাতালের একটা বিল্ডিং আছে কিন্তু এটা চালু হয় নাই, এটা আমরা চালুর জন্য চেষ্টা করবো। ডেন্টাল ইউনিট যেটা আছে এটা পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে আমরা উন্নীত করবো।
রাজশাহীকে বলা হয় সিল্ক সিটি বা ম্যাঙ্গো সিটি, শিক্ষানগরী, কিন্তু এখানে বেকারত্বের হার প্রচুর, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত।
এ জন্য এখানে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা গেলে অনেক কলকারখানা স্থাপিত হবে এবং এখানে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আমরা এগ্রোবেসড ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে চাই যাতে এখানের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেতে পারে এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। আমরা রাজশাহীতে হাইটেক পার্কটাকে কার্যকর করতে চাই। হাইটেক পার্কটাকে কার্যকর করতে পারলে আইটি বেসড অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও আমরা বলেছি যে রাজশাহীর বিসিক প্রায় মৃতপ্রায় এবং দ্বিতীয় বিসিক গেট হতে যাচ্ছে। এ গুলোকে কার্যকর করে আমরা শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চাই।
এছাড়াও রাজশাহীর যে ঐতিহ্য রেশম, সে রেশম শিল্প তো আসলে এখন খুব বেশি ফ্লারিশ করে নাই; আমরা রেশম শিল্পটাকে চালু করতে চাই।
রাজশাহীর পদ্মা নদী ঘিরে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। পদ্মা নদীর পানিকে পরিকল্পিতভাবে কৃষির সেচের আওতায় নিয়ে এসে আমরা কৃষির উৎপাদনকে বৃদ্ধি করতে চাই। এছাড়া নারীদের আমরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গড়ে তুলতে চাই। এছাড়া আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে চাই।
বাসস: নির্বাচনে আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: নির্বাচন আচরণবিধি এবং আরপিও তে যে সমস্ত কথা আছে সেগুলো আমরা পূর্ণ প্রতিপালনে সচেষ্ট আছি। আমাদের কর্মী বাহিনী ও যারা নির্বাচন কাজে সংশ্লিষ্ট আছেন তাদের সকলের প্রতি আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা নির্বাচন আচরণবিধি আমরা পুরা মেনে চলবো ইনশাআল্লাহ।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটে আপনার অবস্থান কী?
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর : আমরা অবশ্যই গণভোটের পক্ষে। আমরা চাই সংস্কার, আমরা চাই ক্ষমতার ভারসাম্য, আমরা চাই দেশে যেন ফ্যাসিবাদ আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এ জন্য আমরা গণভোটের পক্ষে আছি। আমরা গণভোটের প্রচারণাও চালাচ্ছি এবং সব জায়গায় গণভোটের ‘হ্যাঁ’-ভোটের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
বাসস: জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতোপূর্বে যেগুলো হয়েছে সেগুলো তো আসলে নির্বাচন ছিল না। একটা পাতানো নির্বাচন, ভোটারবিহীন নির্বাচন, ‘আমি-তুমি-ডাামি’ নির্বাচন ছিল। এজন্য ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ ছিল না এবং বিগত সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখেনি। তবে আগামী যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে আমরা আশা করি যে এখানে ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে এবং সে লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভোটারদের মধ্যে একটা বিশাল প্রত্যাশা যে তারা তাদের মতো করে সরকার গঠন করবে, তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে এ আসনটি গঠিত। আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।
রাজশাহী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, নাগরিক ঐক্যের ডা. সামছুল আলম, এবি পার্টির সাঈদ নোমান, লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ।