শিরোনাম

রাজশাহী, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ভোটে জিতলে ফ্যামিলি ও হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে।
এছাড়া নিরাপদ নগর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের এমপি প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও রাসিকের সাবেক এ মেয়র।
নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এ প্রার্থী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) রাজশাহী জেলা সংবাদদাতা ওমর ফারুক।
বাসস: নির্বাচনে আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রতিশ্রুতি কী?
মিজানুর রহমান মিনু: আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তিনবারের মেয়র ছিলাম এবং একবার সংসদ সদস্য ছিলাম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি রাজশাহী-২ (মহানগরী) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি যখন এই আসনের এমপি ও মেয়র ছিলাম, তখন রাজশাহী ছিল দেশের অন্যতম সুন্দর, সুখী, সমৃদ্ধশালী, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, আলোকিত ও নিরাপদ একটি মহানগরী।
সেই সময়ে রাজশাহী অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। যেমন, স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে ‘হ্যাপি সিটি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ পুরস্কার। এ ছাড়া রাজশাহী ইপিআই প্রোগ্রাম ও পোলিও নির্মূলেও অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে হারিয়ে যাওয়া সেই সুন্দর ও নিরাপদ রাজশাহীকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা।
তরুণ প্রজন্মের জন্য আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সুদানের ট্রাকম সিটির মতো রাজশাহীকে একটি আইটি শহর হিসেবে গড়ে তুলবো। যাতে যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থান হয় এবং বিদেশেও তাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া, প্রতিটি মায়ের হাতে আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিতে চাই, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই। যাতে মায়েরা সরাসরি চাল, ডাল, তেল, মাংস ও সাবানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোর অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন।
আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। দলের চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে হাসপাতালে কাউকে মাটিতে শুয়ে থাকতে হবে না। প্রত্যেকের জন্য সিট এবং পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা সরকার করবে। এর জন্য একটি হেলথ কার্ড বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা হবে যা ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনিশ্চিত করা হবে। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।
কৃকদের জন্য আমাদের পরিকল্পনা হলো তাদের ‘কৃষি কার্ড’ প্রদান করা এবং যেন তারা ভালোভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। রাজশাহীতে একটি এগ্রোবেজ ইপিজেড এবং সিল্ক শিল্পের প্রসারে আমাদের আগের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
সর্বশেষে, রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুর এবং দুবাইয়ে কৃষি পণ্য বা শস্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ব্যাপক পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। যাতে কেউ বেকার না থাকে। আমরা বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বারোপ করবো।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মিজানুর রহমান মিনু: এই নির্বাচন একটি বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচন অতীতের ভালো ভালো নির্বাচনের মতো হচ্ছে। আমরা নির্বাচন আচরণবিধি নিজেরা পালন করছি এবং আচরণবিধি পালন করেই নেতাকর্মীরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মিজানুর রহমান মিনু: আমরা গণভোটের হ্যাঁ এর পক্ষে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। ছাত্রআন্দোলনে অনেকে শহীদ হয়েছেন। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমি নিজেও ৫৬টি মামলার আসামি। সাড়ে ৪ বছর কারাগারে ছিলাম। আমরা মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেই ছিলাম।
বাসস: জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মিজানুর রহমান মিনু: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহীতে খুব শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রচার-প্রচারণা চলছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারেনি। সেই অধিকার থেকে দীর্ঘ সময় বঞ্চিত ছিল। আমরা চাই প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট দিতে পারে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটে সুষ্ঠ এবং সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকবে সেটি আমরা চাই। জনগণের অধিকার যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে এ আসনটি গঠিত। আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।
রাজশাহী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা হলেন, নাগরিক ঐক্যের ডা. সামছুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির সাঈদ নোমান, লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ।