বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৬

বান্দরবানের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাজ করবেন বিএনপির সাচিং প্রু জেরী

বিএনপি’র প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী। ফাইল ছবি

বান্দরবান, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে জেলার মানুষের প্রধান সমস্যা পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেব। সম্প্রতি বাসসের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

পার্বত্য জেলা বান্দরবান দেশের সর্বশেষ সংসদীয় আসন। এই জেলার সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩০০ নং সংসদীয় আসন। এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের বান্দরবান জেলা সংবাদদাতা সৈকত দাশ। 

বাসস : শুভ সকাল

সাচিংপ্রু জেরী : শুভ সকাল

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী? 

সাচিংপ্রু জেরী : বাসসকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই 

আমাদের দলের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রকাঠামোর জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছেন। প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিনির্মাণের ৩১ দফার সবকটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা এসব বাস্তবায়ন করতে চাই। 

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে কয়েকটি প্রকট সংকট আমরা বাস্তবভাবে উপলব্ধি করছি। এর মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। জেলার শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। শিক্ষা খাতে সারা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে অগ্রগতি থাকলেও এটিকে আরও সংস্কার করে নতুনভাবে সাজাতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক থেকে শুরু করে হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে, এলাকাভিত্তিক ও গুণগত মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। 

পাশাপাশি স্বাস্থ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সমস্যা। থানচি, রুমা এবং দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও জনবলের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব। বান্দরবানের সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকট দূর করে চিকিৎসকরা যদি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের ছোটোখাটো সমস্যাগুলোর সমাধান এখানেই করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সংকটগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাই। 

পানি সংকট বান্দরবান জেলার একটি বড় সংকট। দেশের শেষ সীমানায় অবস্থিত বান্দরবান জেলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদী প্রবাহিত হচ্ছে। শঙ্খ, মাতামুহুরী, বাঁকখালী ও রেজুখাল। এই নদীগুলো পুরোপুরি বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতর অবস্থিত। সুতরাং পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদেরই। পানি সংরক্ষণের জন্য নদীর আশপাশের পাথর, জংলি কলাগাছ, গাছপালা ও প্রাকৃতিক কাঠামো সংরক্ষণ করা যায় তাহলে বর্ষাকালে যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি হয়, তা প্রাকৃতিকভাবেই রিজার্ভ হয়ে সারা বছরের পানি সংকট দূর করবে। এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাজ করতে চাই। 

বান্দরবানে ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসহ মুসলমান, হিন্দু, বড়ুয়াসহ মোট ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এটি একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক পুণ্যভূমি। এই বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে যদি পর্যটন শিল্পকে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিকশিত করা যায়, তাহলে রিকশাচালক, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে খাওয়ার হোটেল, আবাসন, অবকাঠামো ও পর্যটনসেবার সঙ্গে জড়িত সকলেই উপকৃত হবে। বান্দরবানকে একটি পর্যটন জেলা হিসেবে ঢেলে সাজাতে চাই। 

বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

সাচিংপ্রু জেরী : নির্বাচন কমিশন থেকে প্রণীত আচরণবিধি সংক্রান্ত যে প্রচারপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, তার হাজার হাজার কপি এলাকা ভিত্তিক নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আচরণবিধি যাতে কেউ কোনোভাবেই লঙ্ঘন না করে সে লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের কাউন্সিলিংও করা হয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বান্দরবানে যে যেখানে অবস্থান করছে, সবাই তা কঠোরভাবে মেনে চলছে। এখানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

সাচিংপ্রু জেরী : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জুলাই সনদ বিষয়ে এক ও অভিন্ন মত পোষণ করে। এখানে দ্বিমত পোষণের কোনো সুযোগ নেই।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ? 

সাচিংপ্রু জেরী : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দীর্ঘ সংগ্রামের পর আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

দলের কর্ণধার তারেক রহমান বাংলাদেশকে একবিংশ শতাব্দীর যুগোপযোগীভাবে বিনির্মাণের জন্য যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন এটা সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং নারীদের জন্য বিশেষ ইনসেন্টিভ দেওয়ার যে পরিকল্পনা রয়েছে সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সারা বাংলাদেশের মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করবে।

এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ মো.সুজাউদ্দীন ও জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী আবু জাফর মো.ওয়ালী উল্লাহ। 

বান্দরবান জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন। 

বাসস : আপনাকে ধন্যবাদ

সাচিংপ্রু জেরী : বাসসকে ধন্যবাদ