শিরোনাম

বান্দরবান, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস):মৌলিক চাহিদা পূরণসহ জেলাবাসীর দোরগোড়ায় সরকারি সব সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন। বাসসের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের বান্দরবানের জন্য একটা গণমুখী উন্নয়ন দরকার। যেখানে প্রত্যেকটা মানুষ ‘এক্সেস টু সার্ভিসের’ আওতায় থাকবে। মানে সরকার যে-সব সুযোগ সুবিধাগুলো দেয় সেগুলো যাতে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায় সেটি নিশ্চিত করতে চাই।’
বান্দরবান (সংসদীয় আসন ৩০০) থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন। তিনি এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর সাহাবের বাড়ির বাসিন্দা সুজাউদ্দিন পেশায় ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক। ৩৩ বছর বয়সি এই যুবক পাহাড়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, সংকট এবং সম্ভাবনার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এই সাক্ষাৎকারে।
তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বান্দরবান জেলা সংবাদদাতা সৈকত দাশ।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
মো.সুজাউদ্দীন : আসসালামু আলাইকুম। নমস্কার, আদাব, একো বায়া। আগামী দিনের বান্দরবানে গণমুখী উন্নয়ন দরকার। এই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। এখানকার এডুকেশন সিস্টেমের উন্নয়ন করতে চাই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে চাই। যেখানে যে সম্প্রদায়ের স্কুল আছে সেখানে সেই সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কোয়ালিটি এডুকেশনের পাশাপাশি কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ ও কমিউনিটি কালচার চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই।
এখানে নির্দিষ্ট গ্রিন ইকোনমির একটা ভ্যালু চেইন আছে। সেই ভ্যালু চেইনটা নিয়ে কাজ করে এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। প্রতিটি তরুণ যে চাকরি করবে তা নয়। বরং তারা একেকজন উদ্যোক্তা হয়ে যাতে চাকরি দিতেও পারে, তা নিশ্চিত করতে চাই। এই উদ্যোক্তাদের মধ্যে দিয়েই আগামীর বান্দরবান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কন্ট্রিবিউট করতে পারবে। একইসাথে তাদের মানসম্মত জীবন জীবিকাও নিশ্চিত করতে চাই।
যদি ক্ষমতায় আসি, যে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকব, সেসময় এলাকার জনগণের কাছে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। নিজ এলাকার সরকারি বরাদ্দ জনগণের জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সময় আমরা দেখি, বাজেট হয় কিন্তু জনগণ কিছুই জানে না। তারা যেন প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ ও খরচের হিসেবটা জানতে পারে তা নিশ্চিত করব। জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিদিন এসব কাজের একটা লাইভ আপডেট থাকবে।
এখানে একটা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা আমরা ভাবছি। এটা যেহেতু বর্ডার এরিয়া, এই বর্ডার এরিয়ায় আমরা উন্নতমানের একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে চাই। যেখানে বান্দরবানসহ দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. সুজাউদ্দীন: এনসিপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীদের সাথে ইতোমধ্যেই আমরা কথা বলেছি। সংগঠনের উপজেলা পর্যায়ের প্রধান সমন্বয়কারী এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী, আমাদের ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তিসহ আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সেন্ট্রাল ব্রিফ করা হচ্ছে।
এই ব্রিফে বলা হচ্ছে যে, একটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ ইলেকশন হতে হবে। কোনোপ্রকার মাসেল পাওয়ার ব্যবহার করে আমরা জনগণকে ডমিনেট করতে চাই না। জুলাইয়ের শক্তি হিসেবে আমরা কোন মানুষের প্রতি বে-ইনসাফি না। আমরা নির্বাচনি আচরণবিধির প্রত্যেকটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করছি। নির্বাচনি আচরণবিধি পালন করেই এখানে একটা ব্যালট বিপ্লব করব।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. সুজাউদ্দীন : এবার ইলেকশনে আমাদের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় আমরা আছি। ‘হ্যাঁ’ মানে হচ্ছে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণের পক্ষে থাকতে হবে। আপনারা জানেন যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পাটাতনের উপর ভর করে এনসিপি গঠিত হয়েছে। সেটার ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আমাদের যে জোট এই জোট ‘হ্যা’ঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করছি।
‘জুলাই সনদের বিষয়ে শুরু থেকেই আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। কারণ আপনারা জানেন যে এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন যদি না হয় এবং যদি আবার ফ্যাসিবাদ নব্য ফ্যাসিবাদের উত্থান হয় তাহলে বাংলাদেশে সবচেয়ে আগে যারা আঘাতপ্রাপ্ত হবে তারা হলাম আমরা। তাই এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। তাই আমরা প্রত্যেকটা ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ভাবে অবস্থান নিয়েছি এবং সাথে সাথে জনগণকেও আমরা সচেতন করছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. সুজাউদ্দীন: বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টের আমলে জনগণ যে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছে, আর কখনোই যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়। তা সেটা ভোটের মাঠেই হোক কিংবা জনগণের দুয়ারে হোক। কোন জায়গায় আর কখনোই শুধুমাত্র ক্ষমতাবান লোকজন ক্ষমতায় আসবেন না। জনতার ক্ষমতায়ন হবে। জনগণই ক্ষমতার অধিকারী হবেন। জনগণই যাতে তার ক্ষমতার অধিকারটা উপভোগ করতে পারে সে ব্যবস্থা দেখতে চাই।
আমরা চাই জনগণ তার নিজের ভোট নিজে দেবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট যেটাকে বলছি, এটা এক ধরনের নিজেকে ভোট দেওয়ার মতো। এটা তার অধিকারের লড়াই। সাথে সাথে সে তার নিজের ভোট পাহারা দেবে। আমরা প্রত্যাশা করছি সব ধরনের প্রশাসন, সব অংশীজন জনগণের এই অধিকার রক্ষায় এবার একটা উদাহরণ তৈরি করবে যার মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে।
এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবু জাফর মো.ওয়ালী উল্লাহ।
বান্দরবান জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন।