শিরোনাম

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) দল আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র ডান ও বামপন্থীদের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত নতুন জনমত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দুটি আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে মার্জের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সেখানে উগ্র ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় জয় পায়। ১৯৪৫ সালের পর কোনো জাতীয়তাবাদী দলের জন্য এটিই সর্বোচ্চ ভোটের হার। বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের নতুন জরিপে মের্ৎসের সিডিইউ মাত্র ৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।
এটি দেশটির কোনো আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল হতে পারে। এমনকি রাজ্য পার্লামেন্টে আসন পেতে প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার নিচেও সিডিইউ নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জরিপে ৩৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে এএফডি। তাদের খুব কাছাকাছি রয়েছে মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি)। দলটির সমর্থন ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে রাজ্যটিতে এসপিডিই সরকার পরিচালনা করছে।
জাতীয় পর্যায়ে এসপিডি মার্জের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ছোট অংশীদার। গত দুই বছরে দলটি নির্বাচনে একের পর এক বড় ধাক্কা খেয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নকে নিজেদের ঐতিহাসিক ঘাঁটিগুলোর একটি ধরে রাখতে চাইছে দলটি।
জরিপে ১০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে উগ্র বামপন্থী ডি লিংকে। বর্তমানে রাজ্য সরকারে এসপিডির ছোট জোটসঙ্গী হিসেবে রয়েছে দলটি।
জরিপের ফল ভোটের দিনও একই থাকলে এসপিডি, ডি লিংকে ও গ্রিনসের মধ্যে তিনদলীয় জোট গঠনের সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এএফডির সম্ভাব্য কোনো জোটসঙ্গী নেই।
দেশটির প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্ণবাদ এবং নব্য-নাৎসিদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে উগ্র ডানপন্থী দলটিকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ বলেই বিবেচনা করা হয়।
বার্লিনে মেয়র পদে লড়াইও এখনো হাড্ডাহাড্ডি। বর্তমানে সিডিইউ ও এসপিডির জোট সেখানে সরকার পরিচালনা করছে। জাতীয় সরকারের মতোই সেখানে এই দুই দলের জোট রয়েছে। তবে মের্ৎসের সিডিইউর সমর্থন প্রায় নিশ্চিতভাবেই কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেডডিএফের জরিপে ২৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ডি লিংকে সামান্য ব্যবধানে সিডিইউর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সিডিইউ পেয়েছে ২১ শতাংশ সমর্থন।
এরপর রয়েছে এএফডি ১৭ শতাংশ, গ্রিনস ১৬ শতাংশ এবং এসপিডি ১০ শতাংশ।
মের্ৎসের রক্ষণশীলরা সাধারণত ডি লিংকেকে খুবই অপছন্দ করে। দলটি আংশিকভাবে সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির শাসক দলের অবশিষ্ট অংশ থেকে গড়ে উঠেছে।
মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নের মতো বার্লিনের জরিপের ফলও ডি লিংকে, গ্রিনস ও এসপিডির বামপন্থী জোটকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য সরকার গঠনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখাচ্ছে।
মের্ৎসের জন্য এটি বড় ধরনের আরও একটি ধাক্কা হতে পারে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার অনুমোদন ইতোমধ্যেই রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছাকাছি থাকা এই চ্যান্সেলরের জন্য মেকলেনবুর্গে উগ্র ডানপন্থীদের জয় এবং বার্লিনে উগ্র বামপন্থীদের জয় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।
মের্ৎসের নিজ দলই তাকে সরিয়ে দিতে পারে—বার্লিনে এমন আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত এই চ্যান্সেলর নানা ভুল বক্তব্যের কারণে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ছেন।