শিরোনাম

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : নাইজেরিয়ার পুলিশ প্রধান বলেছেন, দেশটিতে সহিংসতা, জিহাদি বিদ্রোহ ও ব্যাপক অপহরণ সংকটের মধ্যেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিরাপদ ও সুষ্ঠু হবে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
আবুজা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অতীতে দেশটির নির্বাচনগুলো সহিংসতায় কলঙ্কিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, রাজনীতিবিদরা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং ভিন্নমত দমনে প্রায়ই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করেছেন। জাতিগত সহিংসতাও প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে।
নাইজেরিয়া পুলিশ বাহিনীর মহাপরিদর্শক ওলাতুনজি ডিসু বলেন, ‘দেশে আমরা নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করব।’ তিনি নির্বাচনের মাত্র ১০ মাস আগে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব নেন।
তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, ‘যাতে ২০২৭ সালে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারি।’
জিহাদি বিদ্রোহ ও সশস্ত্র ‘দস্যু’ চক্রের অপহরণে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত দেশটির সহিংসতাপূর্ণ উত্তরাঞ্চলে ভোটগ্রহণ কীভাবে হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই মানুষ ভোট দিতে পারবে।’
তবে কিছু নাইজেরীয় এএফপিকে বলেছেন, ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে যেতে তারা ভয় পাচ্ছেন।
ডিসু বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছি, যাতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি’র মতে, ২০২৪ সালের পর থেকে নাইজেরিয়ায় সহিংসতা বেড়েছে। দস্যুবৃত্তি ও জিহাদি হামলার কারণে দেশটি এখন প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস সময় পার করছে।
তবে প্রায় ২৪ কোটি মানুষের দেশটিতে পুলিশ বাহিনীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে বিপুল জনসংখ্যা, নিরাপত্তাহীনতা, অপর্যাপ্ত সম্পদ, জনসাধারণের আস্থার ঘাটতি এবং পুলিশ সদস্যদের অসম বণ্টনও রয়েছে।
২০২০ সালে পুলিশের বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ও ডাকাতি দমন ইউনিট সার্সের নৃশংসতার বিরুদ্ধে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।
টিনুবু সরকার পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় সংবিধান সংশোধন করে নাইজেরিয়ার ৩৬টি রাজ্যের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বাধীন পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
সমর্থকদের মতে, এর ফলে আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠবে। তাদের জবাবদিহিও সহজ হবে। স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পাওয়া সদস্যরা এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি ভালোভাবে জানবেন। কয়েক বছর ধরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাহীনতা এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর ধীরগতিতে সাড়া দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডিসু বলেন, ‘আমরা রাজ্য পুলিশ গঠনের পক্ষে।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে আবুজায় জাতীয় সংসদ ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে পুলিশ সদর দপ্তরে নিজের কার্যালয়ে এএফপি’কে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এর কাঠামো তৈরিতেও আমরা সহায়তা করেছি।’
তবে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, নাইজেরিয়ার ক্ষমতাধর গভর্নররা বিরোধী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে রাজ্য পুলিশকে ব্যবহার করতে পারেন।
ডিসু বলেন, কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত হবে না। রাজ্য পুলিশগুলোর ওপর তাদের কিছুটা তদারকি থাকবে। প্রশিক্ষণও সারা দেশে একই মানের করা হবে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘রাজ্য পুলিশের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত কোনো কিছু ঘটতে শুরু করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
মার্চে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ডিসু বলেন, এরই মধ্যে তিনি কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর কাজ করছেন। বর্তমানে বাহিনীতে ৩ লাখের কিছু কম কর্মকর্তা রয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী ও পুলিশ-উভয়ই বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।
ডিসু আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পর পুলিশ সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নাইজেরিয়ার পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তির আধুনিকায়নেও জোর দিচ্ছে।
বর্তমানে ২৫ জনের একটি ড্রোন দল বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অপরাধের প্রবণতা আরও ভালোভাবে বুঝতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি কোথায় দস্যুবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে। আমরা বিদ্রোহের পরিস্থিতি জানি। কোথায় ডাকাতি হতে পারে, সেটিও আমরা জানি।’
ডিসু নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং অসদাচরণকারী পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জনসাধারণকে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অনেক নাইজেরীয় এখনো পুলিশের ওপর আস্থা রাখেন না।
গবেষকদের মতে, কয়েক দশকের দুর্নীতিতে পুলিশ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাড়তে থাকা সহিংসতার মুখেও তারা কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ডিসু বলেন, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এ প্রচেষ্টায় অনেক সময় তাদের জীবনও দিতে হচ্ছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, আমরা প্রতিদিনই পুলিশ সদস্য হারাচ্ছি।’