শিরোনাম

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এটি কোনো ‘সাধারণ বন্যা’ ছিল না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ দুর্যোগ ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেমে আসে। এতে অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু ও প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশি নদীর বন্যা কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার ফলে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের ভয়াবহ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।’
হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।
শাহ বলেন, ‘এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।’
প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালের অধিকাংশ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর বিপুল কার্বন নিঃসরণের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের অবদান খুবই সামান্য। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বড় একটি অংশ দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের এ বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার এখনই সময়।’
বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানি নিচের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’।
বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, এই ঘটনা ‘পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ স্মারক’।
এদিকে বড় ধরনের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের সম্পদ সীমিত থাকায় দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।