শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রোববার জলবায়ু বিক্ষোভে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেবেন বলে ধারণা করছে দেশটির পুলিশ ও আয়োজকেরা।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় জলবায়ু।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার পেট্রোলের ওপর কর কমিয়েছে। পেট্রোল সরবরাহকারীদের জ্বালানিতে কম-কার্বন বিকল্প যুক্ত করার বাধ্যবাধকতাও শিথিল করেছে সরকার। সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে জনতুষ্টিবাদী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পার্টি।
স্টকহোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সুইডেন ও বিদেশের বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, সরকারের জলবায়ু নীতি দেশটির নির্গমন কমানোর লক্ষ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাতে ২০১০ সালের তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ৭০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সুইডেনের।
২০৪৫ সালের মধ্যে নিট শূন্য নির্গমন অর্জনেরও লক্ষ্য রয়েছে।
২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনের উপায় নিয়ে সরকার-নিযুক্ত একটি কমিশনের সুপারিশও প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রিস্টেরসন সরকার। এসব সুপারিশের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করার বিষয়ও ছিল।
রোববারের বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক সুইডিশ সোসাইটি ফর নেচার কনজারভেশনের প্রধান বিয়াত্রিস রিন্ডেভাল বলেন, ‘জলবায়ু সংকট খুবই বাস্তব এবং এটি এখন আমাদের সামনে উপস্থিত।’
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখনই এমন জলবায়ু নীতি গ্রহণের সময়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নির্গমন কমাবে।’ এ সময় তিনি ইউরোপে চলতি গ্রীষ্মের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কথাও উল্লেখ করেন।
১৩ সেপ্টেম্বর সুইডেনে নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট হবে। জনমত জরিপে ডানপন্থী জোট পিছিয়ে রয়েছে।
রোববারের মিছিলে ২০০টিরও বেশি বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় মিছিলটি শুরু হওয়ার কথা।
মিছিলে গবেষক, যুব ও ক্রীড়া সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, বহিরাঙ্গন ও গ্রামীণ সংগঠন, ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং অধিকারকর্মী সংগঠনগুলো অংশ নেবে।
রিন্ডেভাল বলেন, ‘এর আগে কখনো এত বেশি সংগঠন সুইডেনের কোনো জলবায়ু বিক্ষোভে অংশ নেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘অঙ্গীকারের মাত্রা ব্যাপক।’
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটির বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভেরিয়ান জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, নির্বাচনে তাদের কাছে জলবায়ুই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অপরাধ ও প্রবীণদের সেবার পরেই জলবায়ুর অবস্থান।
সরকারের যুক্তি, সুইডেনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও দেশটির কোম্পানিগুলোর অবস্থান ধরে রাখতে এবং আরও শক্তিশালী করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে।