বাসস
  ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২

আর্জেন্টিনায় শিশু যৌন নির্যাতন মামলায় সন্ন্যাসিনীর খালাস বাতিল

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী শিশুদের যৌন নির্যাতনের বহুল আলোচিত মামলায় সাবেক এক সন্ন্যাসিনীর খালাসের রায় বাতিল করেছে আর্জেন্টিনার একটি আদালত। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতকে তার সাজা নির্ধারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এএফপির হাতে আসা আদালতের রায়ে এ তথ্য জানা গেছে।

জাপানের নাগরিক কুমিকো কোসাকাকে ২০২৩ সালে মেন্দোজার প্রোভোলো ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছিল। দরিদ্র পরিবারের শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পরিচালিত আবাসিক স্কুল ছিল এটি।

আর্জেন্টিনার মেন্দোজা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মেন্দোজা প্রদেশের সুপ্রিম কোর্ট অব জাস্টিসের শুক্রবার দেওয়া রায়ে খালাস বাতিলের পর ৫১ বছর বয়সী সাবেক এই সন্ন্যাসিনীর সর্বোচ্চ ৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী সার্জিও সালিনাস এএফপিকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ‘ঐতিহাসিক’।

তিনি বলেন, এর অর্থ হলো শিশুরা সত্য বলেছিল।

তবে এখনো সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

২০১৬ সালে প্রথম অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মামলাটি সাবেক পোপ ফ্রান্সিসের নিজ দেশ আর্জেন্টিনার ক্যাথলিক চার্চে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

লুজান দে কুয়ো শহরের ওই প্রতিষ্ঠানের দুই পুরোহিতকে ২০১৯ সালে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে ৪০ বছরের বেশি করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসব অপরাধের শিকার হয়েছিল প্রায় ২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

স্কুলের এক মালী ও এক বেদি সহকারীও যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড পান।

২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগীদের বয়স ছিল চার থেকে ১৭ বছর।

কোসাকার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতন এবং অপরাধ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

স্কুলের আরও আট নারী কর্মী, যাদের মধ্যে আরেকজন সন্ন্যাসিনীও ছিলেন, ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হন। ২০২৩ সালের বিচারে তাদের সবাইকে খালাস দেওয়া হয়।

শুক্রবারের রায়ে মেন্দোজা আদালত ওই আট নারীর খালাসের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২০০ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ এই রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।