শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার পর ইসরাইল যে অভিযোগ করেছে, বুধবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। ইসরাইলের দাবি, সিরিয়ার ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি ইসরাইলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইসরাইলের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির মতবিরোধের একটি বিরল উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার নতুন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ওই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক এক জিহাদি নেতা, যিনি তুরস্কের সমর্থনপুষ্ট।
ইসরাইল হামলার দায় সরাসরি স্বীকার না করলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা বিষয়ে ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা ছিল। কিন্তু সিরিয়া আলেপ্পোর কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিয়ে সেই সমঝোতা ভঙ্গের পথে এগিয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ধরনের সেনা মোতায়েন ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে—এ বিষয়ে ইসরাইল সিরিয়াকে বারবার সতর্ক করেছিল। সিরিয়া সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেছে।’
ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ন্যাটোর সদস্য।
তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কিত পটভূমির এরদোয়ান বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
তুরস্কের সরকার বুধবার ইসরাইলের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘বেআইনি বিমান হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা’।
এর আগে মঙ্গলবার সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক নিশ্চিত করেন যে ইদলিব প্রদেশের আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা ইসরাইলই চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক বন্ধু এবং তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই হামলা অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যারাক বলেন, এই হামলা ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কোনো ভূমিকা রাখে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে আরও সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে যুক্তিসংগত আলোচনা ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাই।’