শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ১,২০০ ব্যক্তিকে গ্রহণ করবে লাইবেরিয়া
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ বিদেশি নাগরিককে গ্রহণ করবে লাইবেরিয়া। মঙ্গলবার দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান আরও জোরদার করার মধ্যেই লাইবেরিয়া এ সিদ্ধান্ত নিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এর আওতায় এমন দেশেও মানুষকে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজ দেশ নয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
লাইবেরিয়ার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে।
লাইবেরিয়া সরকার জানিয়েছে, বহিষ্কৃতদের প্রথম দফায় ২০ জন বৃহস্পতিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে পৌঁছাবেন। তবে তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো সময় লাইবেরিয়া ছেড়ে যেতে পারবেন অথবা চাইলে দেশটিতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকে লাইবেরিয়ায় পাঠাতে চায়। সালভাদরের এই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে অভিবাসী বহিষ্কারের বিতর্কে তিনি অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এর আগে তাকে ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এল সালভাদরে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আফ্রিকার ঘানা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট বা অস্থায়ী গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তবে এসব দেশ থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের দ্রুত তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক দুই কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিকদের গ্রহণে আফ্রিকার দেশগুলোকে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে লাইবেরিয়ার সরকার বলেছে, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে তারা কোনো অর্থ, ক্ষতিপূরণ বা বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দাবি করেনি এবং পায়ওনি।
লাইবেরিয়া এই কর্মসূচি পরিচালনায় এবং আরও ব্যাপকভাবে তার অভিবাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা পাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকার জোর দিয়ে বলেছে, পুরো ব্যবস্থাটিই ‘মানবিক কারণে’ পরিচালিত হচ্ছে।
লাইবেরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ইতিহাসের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ১৯ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক দাস এবং স্বাধীন আফ্রিকান-আমেরিকানদের আফ্রিকায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে কাজ করা একটি সংগঠনের উদ্যোগে লাইবেরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।