শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : কানাডার পূর্বাঞ্চলে বায়ু ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। অটোয়া একে ‘উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সোমবার ঘোষিত এই প্রাথমিক চুক্তি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার, কুইবেক প্রদেশ এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের মধ্যে হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।
পরিকল্পনার আওতায় চার্চিল ফলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং ল্যাব্রাডরে গাল আইল্যান্ডে নতুন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে। দুটি প্রকল্পই কানাডার আটলান্টিক উপকূলের ল্যাব্রাডর এলাকায় অবস্থিত।
উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের একটি অংশ কুইবেকে সরবরাহ করা হবে। কুইবেকের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাইড্রো-কুইবেক এই বিদ্যুতের উল্লেখযোগ্য অংশ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিক্রি করবে।
কার্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পুরো প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৫০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
তবে কয়েক মাসের মধ্যেই এই উদ্যোগ থমকে যেতে পারে।
সোমবার নিউফাউন্ডল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেত স্বীকার করেন, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী পার্টি কুইবেকোয়া আগামী অক্টোবরে প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হলে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে। বর্তমান জনমত জরিপগুলোতেও দলটির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ টরন্টো, মন্ট্রিয়ল ও ভ্যাঙ্কুভারের সব বাড়িতে একসঙ্গে আলো, গরম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন কার্নি।
গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সমালোচনার মুখে রয়েছেন কার্নি। তাদের অভিযোগ, তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের নেওয়া জলবায়ু প্রতিশ্রুতি থেকে কার্নি সরে যাচ্ছেন।
গত বছর কার্নির মন্ত্রিসভার এক সদস্য আলবার্টা থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন।
তবে সোমবারের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে কানাডিয়ান ক্লাইমেট ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কানাডার বিদ্যুৎ গ্রিডে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে যে ধরনের উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ প্রয়োজন, এই পরিকল্পনা তারই প্রতিফলন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট রিক স্মিথ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো হলে অস্থির জ্বালানি বাজারের মধ্যেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে তা সহায়ক হবে।