শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইতালির জেনোয়ায় আট বছর আগে সেতু ধসে ৪৩ জনের প্রাণহানির বহুল আলোচিত মামলার রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। এ দুর্ঘটনা দেশটির জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
ফ্রান্স ও ইতালি সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের অংশ জেনোয়ার মোরান্দি সেতুটি ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ধসে পড়ে। এতে কয়েক ডজন যানবাহন গভীর খাদে পড়ে যায়।
ইতালির জেনোয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এ রায়ের মধ্য দিয়ে ১৯৬৭ সালে উদ্বোধন হওয়া সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণকে কেন্দ্র করে চার বছর ধরে চলা বিচার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটবে।
অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, পরিবহন নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগে ৫৭ জন আসামির বিরুদ্ধে মোট ৪০০ বছরের বেশি কারাদণ্ডের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মৃতদের স্বজনদের সংগঠনের প্রধান এগলে পোসেত্তি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আশা করি তারা দোষী সাব্যস্ত হবেন। তবে, ভুক্তভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ পাবে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এতে আমাদের প্রিয়জনরা আর ফিরে আসবেন না।’
সেতুটির ৯ নম্বর স্তম্ভ ধসে পড়ার ঘটনায় পোসেত্তির বোন, ভাগনে, ভাগনি এবং ভগ্নিপতি মারা যান।
তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ‘১৯৬৭ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ধসের আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ ৫১ বছরে, ৯ নম্বর স্তম্ভের স্টে কেবল শক্তিশালী করতে ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়নি।’
১০ ও ১১ নম্বর স্তম্ভে কাজ করা হলেও ৯ নম্বর স্তম্ভে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল।
বিচার চলাকালে প্রসিকিউটর ওয়াল্টার কোটুগনো বলেন, ‘মোরান্দি সেতু ছিল একটি টিকটিক করা টাইম বোমা। এর টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু কখন বিস্ফোরণ ঘটবে তা কেউ জানত না।’
অধিকাংশ আসামিই ইতালির প্রায় অর্ধেক মোটরওয়ে নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী অটোস্ত্রাদে পার ল'ইতালিয়া (এএসপিআই) এবং সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান স্পিয়ার নির্বাহী ও কারিগরি কর্মকর্তা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন দুর্ঘটনার সময় অটোস্ত্রাদের মহাব্যবস্থাপক জিওভান্নি কাস্তেলুচ্চি, স্পিয়ার সাবেক প্রধান আন্তোনিনো গালাতা এবং অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।
কাস্তেলুচ্চির বিরুদ্ধে ৯ নম্বর স্তম্ভের সংস্কারকাজ বিলম্বিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার ১৮ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রতিরক্ষা পক্ষের প্রধান যুক্তি, সেতুটিতে একটি গোপন নির্মাণগত ত্রুটি ছিল। সেটি হলো সেতুর কেবলে ক্ষয় ধরেছিল। তাদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নয়, এ কারণেই সেতুটি ধসে পড়ে।