শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : স্বজনদের কাছে অবৈধভাবে অর্থ পাঠানোয় অভিযুক্ত এক উত্তর কোরীয় পলাতক নারীকে খালাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আপিল আদালত।
তার আইনজীবী বুধবার এএফপিকে এ তথ্য জানান। মানবিক কারণে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি ঘিরে বিদ্যমান আইনি অস্পষ্টতার একটি আলোচিত মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ও বাতিল করা হয়েছে।
সিউলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৩৪ হাজার উত্তর কোরীয় পলাতক বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই উত্তর কোরিয়ায় থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং অর্থ পাঠান বলে ধারণা করা হয়।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তবে এ ধরণের অর্থ পাঠানোর কোনো সুস্পষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেই। কারণ, দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো ব্যাংকিং সম্পর্ক নেই। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধ শান্তিচুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় দুই দেশ এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
এ কারণে পলাতকেরা সাধারণত চীনের মাধ্যমে পরিচালিত অনানুষ্ঠানিক দালালচক্রের ওপর নির্ভর করেন। এসব ক্ষেত্রে একাধিক ব্যাংক হিসাব ঘুরে অর্থ উত্তর কোরিয়ায় নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।
অভিযুক্ত নারীর পক্ষে আইনজীবী লি হি-সুক এএফপিকে জানান, আপিল আদালত মঙ্গলবার তাকে খালাস দিয়েছে।
আদালত স্বীকার করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল কোনো ধরণের লাভ ছাড়াই পলাতকদের সহায়তা করা।
বিনা পারিশ্রমিকে অভিযুক্তের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়া আইন প্রতিষ্ঠান বিকেএলের প্রতিষ্ঠিত জনস্বার্থ ফাউন্ডেশন ডংচনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ায় অর্থ পাঠানোর জটিল প্রক্রিয়ায় দালালদের কমিশন বাবদ মূল অর্থের অর্ধেক পর্যন্ত খরচ হয়ে যেতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পলাতকদের মানবিক কারণে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি তুলনামূলক নমনীয়ভাবে দেখত। তবে শর্ত ছিল, ওই অর্থ যেন উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়।
কিন্তু সাবেক কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের প্রশাসনের সময় ২০২৩ সালে দেশজুড়ে তদন্ত শুরু হয়। ডংচন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আইনে প্রায় ১০ জন উত্তর কোরীয় পলাতকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
সংস্থাটি জানায়, তাদের প্রায় অর্ধেকই আপিল না করে জরিমানা মেনে নেন।
অভিযুক্ত পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারীর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
নিম্ন আদালত স্বীকার করে, অর্থ পাঠানোর পেছনে মানবিক উদ্দেশ্য ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি কার্যত অনিবার্য। তবে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালত রায় দেয়, তা সত্ত্বেও এটি আইন লঙ্ঘনের শামিল।
ডংচন জানায়, ওই নারীকে ১০ লাখ ওন জরিমানা করা হলেও তা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মঙ্গলবার আপিল আদালত তাকে খালাস দেয়।
আইনজীবী লি বলেন, ‘খালাসের রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। আশা করি, বিচারাধীন অন্য মামলাগুলোর ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে সিউলের একটি আদালত একই ধরণের আরেকটি মামলায় এক উত্তর কোরীয় পলাতককে খালাস দিয়েছিল। মানবিক কারণে উত্তর কোরিয়ায় স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানোর ঘটনায় এটিই প্রথম নির্দোষ ঘোষণার রায় বলে মনে করা হয়।