শিরোনাম

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : শরণার্থী হিসেবে বিদেশে পুনর্বাসনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নেপালের একটি আদালত সাবেক দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুধবার এ তথ্য জানান।
কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, কাঠমান্ডু জেলা আদালত মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী টপ বাহাদুর রায়ামাঝিকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, প্রতারণা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।
এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাল কৃষ্ণ খান্ডকে ওই মামলায় সহযোগী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ মামলায় মোট অন্তত ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ভুটানে জাতীয় পোশাক বাধ্যতামূলক করা এবং নেপালি ভাষার ব্যবহার সীমিত করার পর দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ, অর্থাৎ এক লাখেরও বেশি জাতিগত নেপালি ভুটান ছেড়ে পালিয়ে যান।
১৯৮৫ সালে তৎকালীন ভুটানের রাজা ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান পিপল’ নীতি চালু করলে নেপালি ভাষাভাষী লোৎসাম্পা জনগোষ্ঠীকে অভিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং তাদের নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
পরে তাদের অনেকেই নেপালের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। ভুটানে তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ২০০৭ সালে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হয়, যা ২০১৮ সালে শেষ হয়।
পুনর্বাসিতদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পান। এছাড়া ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডেও হাজারো শরণার্থী পুনর্বাসিত হন।
এই পুনর্বাসন কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের জড়িত একটি প্রতারণাচক্র সক্রিয় হয়। তারা নেপালের সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তাদের ভুয়া ভুটানি শরণার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিত।
কাঠমান্ডু জেলা আদালতের তথ্য কর্মকর্তা শিবা খাতিওয়াদা এএফপিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার জেলা আদালত সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী টপ বাহাদুর রায়ামাঝি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাল কৃষ্ণ খান্ড এবং আরও কয়েকজনকে ভুয়া ভুটানি শরণার্থী কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন।’
তবে এ মামলায় অভিযুক্ত সাতজনকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
দোষী সাব্যস্তদের আগামী ১৩ জুলাই সাজা ঘোষণা করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
নেপালের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন শত শত মানুষ। তারা অভিযোগ করেছেন, প্রতারকচক্র তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিলেও বিদেশে পাঠানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন অভিযোগ দায়ের করার পর ২০২৩ সালের মার্চে নেপাল পুলিশ প্রথম এ মামলায় গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে।