শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী নিটজানের কাছে হেবরনের পুরোনো শহর ও পবিত্র ‘কেভ অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ উপাসনালয় মানবজাতির সকলের জন্য অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থান। তবে ফিলিস্তিনি ইসা আমরোর কাছে এটি হেবরন শহরে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণের প্রতীক।
ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিস্টান— তিন ধর্মাবলম্বীর কাছেই স্থানটি পবিত্র।
বিশ্বাস করা হয়, হজরত ইবরাহিম (আ.)-সহ বাইবেলে বর্ণিত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সমাধি এখানে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানটি ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনকে ঘিরে পরস্পর বিরোধী দাবির প্রতীক হয়ে আছে।
ফিলিস্তিনি অঞ্চলের হেবরন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মুসলমানদের কাছে স্থানটি ইবরাহিমি মসজিদ নামে পরিচিত। এটি কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি ও প্রায় ২০০ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী পরিবার পাশাপাশি বাস করে। তবে তাদের চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এলাকাটির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চেকপয়েন্ট, গেট ও টহল ব্যবস্থা চালু করেছে। এছাড়া সীমিত ওই এলাকায় বসবাস করেন না— এমন ফিলিস্তিনিরা সেখানে অবাধে প্রবেশ করতে পারেন না।
সম্প্রতি ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ঘোষণা দেন, উপাসনালয়টির প্রশাসনিক দায়িত্ব, পরিকল্পনা ও নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই পরিবর্তনে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা তা স্বাগত জানিয়েছেন।
কাছের কিরিয়াত আরবা বসতির বাসিন্দা নিটজান এএফপিকে বলেন, ‘এটি এমন একটি স্থান, যেখানে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে সমগ্র মানবজাতির আসা উচিত।’
৩৬ বছর বয়সী এই ইসরাইলি জাতীয় উদ্যানের কর্মী নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘এক অর্থে আমরা এখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের দেখতে আসি।’
তবে উপাসনালয়টির আশপাশে বসবাসকারী অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এটি এখন এমন একটি প্রতীক, যা এমন এক শহরে ইসরাইলের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণকে তুলে ধরে। এলাকাটিতে দুই সম্প্রদায় কাছাকাছি থাকলেও, তাদের জীবনযাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় আবদ্ধ।
ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের দখলে থাকা ভবনের কাছে বসবাসকারী অধিকারকর্মী ইসা আমরো বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, আমরা হেবরনে একটি বড় কারাগারে বাস করছি। চেকপয়েন্টের কারণে চলাচল সীমিত। তাই বাইরের কেউ আমাদের বাড়িতে আসতে পারেন না।’
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো শহরের অনেক ফিলিস্তিনি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় পুরোনো পাথরের ভবনে ঘেরা যে সড়কটি প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল, এখন সেটি প্রায় জনশূন্য।
আমরো এএফপিকে একটি ভিডিও দেখান। সেখানে কয়েকজনকে তার বাড়ির জানালায় পাথর ছুড়তে দেখা যায়। তিনি বলেন, তারা ইসরাইলি। তারা তাকে জানায়, তার বাড়িটি দখল করতেই তারা এসেছে।
তিনি আরও বলেন, তাকে প্রায়ই ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।