বাসস
  ২৯ জুন ২০২৬, ১৫:০৭

হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেছে ইরান

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

ইরান ও ওমানÑ উভয় দেশই উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দাবি করে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘মাসকাট সফরকালে যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে প্রণালী সংক্রান্ত বর্তমান বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় করেছি।’

হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ জলপথ। এর প্রস্থ মাত্র প্রায় ৩০ কিলোমিটার বা ১৮ মাইল।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত অবসানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইরান এখন হরমুজ প্রণালীতে ‘সার্ভিসেস ফি’ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালীতে  কোন ধরনের ফি বা টোল ছিল না।  

তবে যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। তাই সেখানে কোনো ধরণের ফি আরোপ করা উচিত নয়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ বিষয়ে ওমানের অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট ছিল।

গত মঙ্গলবার ইরানি কর্মকর্তাদের মাসকাট সফরের পর ওমান ও ইরান যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়ে তারা পর্যালোচনা করছে।

তবে সপ্তাহের শেষ দিকে ওমান জানায়, কোনো ‘নৌপথ ব্যবহার ফি’ আরোপের কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। 

একই সঙ্গে তারা এও জানায়, জাতিসংঘের সমন্বয়ে তাদের উপকূলসংলগ্ন একটি ‘অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডর’ চালু করা হয়েছে।

এর জবাবে ইরান জানায়, তাদের উপকূলঘেঁষা করিডরই একমাত্র অনুমোদিত নৌপথ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার সতর্ক করে বলেন, বিকল্প কোনো নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা এ অঞ্চলে 
‘উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।’

এর আগে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো ও সামুদ্রিক সেবা নির্ধারণে ইরান ওমান সালতানাতের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবে। পারস্য উপসাগর-সংলগ্ন অন্যান্য দেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন ও হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।’

সমঝোতা স্মারকে আরও বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেবল ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোল ছাড়া জাহাজ চলাচল করা যাবে। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।