শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে কয়েকটি রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী প্রথমে হরমুজ প্রণালীর দিকে নিক্ষেপ করা ইরানের চারটি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করে। এরপর ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এ সব স্থাপনা গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল। তাই সম্ভাব্য আরও হামলা ঠেকাতে রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি শনিবার জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় ভোর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী শনিবার ভোরে জানায়, তারা ‘শত্রুদের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। এর কয়েক দিন আগেই কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়।
কুয়েত সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে। তবে হামলার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা এখনো সফল হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, ইরানের এখনো যুদ্ধক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু ড্রোন আছে। শতাংশের হিসেবে হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র তাদের হাতে রয়েছে।’
এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে।
এর দুই দিন আগে কুয়েত জানায়, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একে তারা ‘জঘন্য ইরানি আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করে।