বাসস
  ০৫ জুন ২০২৬, ১৮:১০

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযান জোরদারে ৭০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন

ঢাকা, ৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। তবে এ অনুমোদনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য বিতর্কিত নীতি-প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশ করে একাধিক সংশোধনীতে দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এখবর জানায়।

বিলটি পাস হলে ট্রাম্পের মেয়াদের অবশিষ্ট সময়জুড়ে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এবং বর্ডার প্যাট্রোলের কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত হবে। অভিবাসন প্রশ্নে মাসের পর মাস তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এটি ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখন বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। সেখানে রিপাবলিকান নেতারা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এটি পাস করিয়ে ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে চান।

এর আগে চলতি বছরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)-এর আংশিক কার্যক্রম রেকর্ড সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটরা সংবেদনশীল স্থানে অভিযান চালানো এবং কর্মকর্তাদের মুখোশ ব্যবহারের মতো কৌশলের ওপর বিধিনিষেধ ছাড়া অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে নতুন অর্থ বরাদ্দে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

রিপাবলিকানরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ নামে দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলের অর্থায়নের পথ বেছে নেয়। এ প্রক্রিয়ায় নিজেদের দলের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারলে তারা ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা এড়িয়ে যেতে পারে।

সিনেটে চূড়ান্ত ভোটের আগে ঘণ্টাব্যাপী সংশোধনী ভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা ওয়াশিংটনে ‘ভোট-আ-রামা’ নামে পরিচিত। এ প্রক্রিয়ায় আইনপ্রণেতারা চূড়ান্ত ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর নানা বিষয়ে ভোটাভুটির সুযোগ পান।

এই ভোটাভুটি ট্রাম্পের কয়েকটি বিতর্কিত উদ্যোগকে নতুন করে আলোচনায় আনে। এর মধ্যে ছিল সরকারের দ্বারা অন্যায়ভাবে টার্গেট হওয়ার দাবি করা মিত্রদের জন্য প্রস্তাবিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল এবং হোয়াইট হাউসে পরিকল্পিত বলরুমের নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দকৃত ১ বিলিয়ন ডলার।

চূড়ান্ত অভিবাসন বিলে বলরুমের অর্থায়ন রাখা হয়নি। তবে দুটি বিষয়ই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অগ্রাধিকারমূলক নীতিগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিয়ে রিপাবলিকানদের একাংশের অস্বস্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।

বিচার বিভাগের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে আপত্তির কারণে বিলটি কয়েক সপ্তাহ আটকে ছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, এটি এমন একটি ‘গোপন তহবিল’ হতে পারে, যার মাধ্যমে ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরাও করদাতাদের অর্থ পেতে পারেন।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এ সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের জানান, প্রশাসন আর এ তহবিল নিয়ে এগোবে না। কিন্তু ট্রাম্প এটিকে ‘চমৎকার’ বলে আখ্যা দেন এবং এটি পুরোপুরি বাতিল হয়েছে নাকি সাময়িকভাবে স্থগিত আছে, তা জানতে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু রিপাবলিকান আইনেই তহবিলটির সমাপ্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।

নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর ঞযড়স ঞরষষরং সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি যখন ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন, তখনই হারতে শুরু করেন। ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিলকে ব্যাখ্যা করার কোনো উপায় নেই। একে ব্যাখ্যা করার একমাত্র উপায় হলো বলা যে এটি বাতিল করা হয়েছে।’

সংশোধনী ভোটগুলো ট্রাম্পের কর্মসূচিকে থামাতে পারেনি, তবে দলীয় শৃঙ্খলার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল, ভবিষ্যৎ বলরুম অর্থায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে বসানোর উদ্যোগ নিয়ে কয়েকজন রিপাবলিকান দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসেন।

ডেমোক্র্যাটরা এ সুযোগে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যয় হওয়া অর্থ আবাসনসহ জীবনযাত্রার ব্যয়-সংক্রান্ত খাতে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে ট্রাম্পের গণ-নির্বাসন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি পৃথক এক ধরনের অসন্তোষ হিসেবে কয়েকজন রিপাবলিকান ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কিয়েভকে ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক অর্থায়ন ঋণ দেওয়ার একটি ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবেও সমর্থন দেন।

রিপাবলিকানদের দাবি, ডিএইচএস-এর আংশিক অচলাবস্থার পর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের অর্থায়ন পুনরুদ্ধারে এ অর্থ প্রয়োজন ছিল।

আগের অন্তর্বর্তী অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর আওতায় ছিল ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি, ইউনাইটেড স্টেটস কোস্ট গার্ড, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিস।

তবে আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলকে সেই ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের ভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া পৃথক রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্ম দেয়।

এই ফলাফলের মাধ্যমে ট্রাম্প অভিবাসন ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত সাফল্য অর্জন করলেন। একই সঙ্গে এটি আবারও দেখিয়ে দিল যে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্টের কিছু বিতর্কিত অগ্রাধিকারের রাজনৈতিক বোঝা সামলাতে রিপাবলিকান নেতৃত্বকে নিজেদের দলের ভেতরের প্রতিরোধও মোকাবিলা করতে হয়।