শিরোনাম

ঢাকা, ৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ইরান যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়া জনগণকে সহায়তা দিতে ১৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.১১ ট্রিলিয়ন ইয়েন) সমপরিমাণ অতিরিক্ত বা সম্পূরক বাজেট বুধবার অনুমোদন করেছে জাপানের মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সম্পূরক বাজেট অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভা ৩.১১৩৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। সম্ভাব্য ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’
কিহারা আরও বলেন, এই বাজেট সরকারের আর্থিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে সরকার ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না হয়।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত এই বাজেট পেট্রোল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমাতে ব্যবহার করা হবে।
এদিকে মে মাসে জাপানের শীর্ষ পটেটো বা আলুচিপস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্যালবি তাদের ১৪টি পণ্যের মোড়কের রং পরিবর্তন করে ধূসর প্যাকেট চালু করে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট কালি সংকটের ফলেই প্রতিষ্ঠানটি তাদের পরিচিত কমলা-হলুদ রঙের মোড়ক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, আগামী বসন্ত পর্যন্ত স্থিতিশীল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎস থেকে ন্যাফথার সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং তা আগের সরবরাহমাত্রার ৮০ শতাংশেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ন্যাফথা তেলজাত একটি উপাদান, যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং একইসঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে।