শিরোনাম

ঢাকা, ১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহরণের ঘটনার প্রতিবাদে নাইজেরিয়ার ওয়ো অঙ্গরাজ্যে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে নাইজেরিয়া ইউনিয়ন অব টিচার্স(এনইউটি)।
গত ১৫ মে দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বোকো হারাম-সংশ্লিষ্ট বন্দুকধারীরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যের তিনটি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অপহরণ করে।
লাগোস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মুক্তিপণের জন্য অপহরণ উত্তর নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও, দেশটির অন্যতম জনবহুল অঙ্গরাজ্য ওয়োতে এ ধরণের গণ-অপহরণ অস্বাভাবিক।
কর্মকর্তারা জানায়, দুই থেকে ১৬ বছর বয়সী ২৫ থেকে ৩৯ জন শিশুর সঙ্গে সাতজন শিক্ষককেও অপহরণ করা হয়।
তাদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে।
এনইউটি ওয়ো অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সোমবার থেকে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্কুলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, অপহরণকারীদের হাতে তাদের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা এখনও আটক রয়েছেন এবং তাদের দ্রুত উদ্ধার ও নিরাপদ মুক্তির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর প্রতিবাদেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
এনইউটি জানায়, এ পরিস্থিতি শিক্ষকদের মধ্যে ভয় ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
অপহৃতদের অবিলম্বে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটি সরকারের প্রতি জোরদার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের বাড়িতে অবস্থান করে আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, বন্দুকধারীরা ইয়াওটা এলাকার ব্যাপটিস্ট নার্সারি ও প্রাইমারি এবং কাছের এসিয়েলের আরও দুটি স্কুলে একযোগে হামলা চালায়। তাদের ভাষায়, এটি ছিল একটি ‘সমন্বিত হামলা।’
খ্রিস্টান এসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া জানিয়েছে, ওই স্কুলগুলো থেকে ৩৯ জন শিশু ও সাতজন শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বলেছেন, অপহৃতদের মধ্যে ২৫ জন শিক্ষার্থী ও সাতজন শিক্ষক রয়েছেন।
নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশের উত্তরাঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। এতে কিছু জঙ্গি দক্ষিণাঞ্চলের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু (বোলা আহমেদ টিনুবু) জানান, ওয়ো অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার বন রেঞ্জার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি সেখানে মন্ত্রী ও জাতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শককে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন।