বাসস
  ২৯ মে ২০২৬, ১৯:৩৭
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ১৯:৩৯

যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮, নিখোঁজ ৩

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কাগজ উৎপাদন কারখানায় রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা তথ্য জানান।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউ শহরে অবস্থিত ওই কারখানায় মঙ্গলবার বিপুল পরিমাণ ক্ষারীয় ও বিষাক্ত রাসায়নিক ভর্তি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে ধসে পড়ে। এই ভয়াহ দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

লংভিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান ব্র্যাড হ্যানিগ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নয়জনের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে করোনারের দপ্তরের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
বুধবার আগে দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। নতুন ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর মোট মৃতের সংখ্যা আটে পৌঁছাল।

নিখোঁজ থাকা বকী তিনজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাপানের নিপ্পন পেপার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানির কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরের শিফট পরিবর্তনের সময় ৯ লাখ গ্যালন (৩৪ লাখ লিটার) ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংক হঠাৎ ফেটে যায়। জানা যায়, সেটিতে ‘হোয়াইট লিকার’ নামক বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ ছিল।
হোয়াইট লিকার হল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইড মিশ্রিত একটি তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ। কাঠের গুঁড়ো গলিয়ে কাগজ তৈরির ম- প্রস্তুতে এটি ব্যবহার করা হয়। 

হ্যানিগ বলেন, উদ্ধারকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার বাতাস ও পানীয় জলে কোনো ধরনের দূষণ পাওয়া যায়নি।

লংভিউ সিটির জনকল্যাণ বিভাগের পরিচালক ক্রিস কলিন্স সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লংভিউয়ের পানি নিরাপদ।’
মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্রুকস স্ট্যানফিল্ড জানান, পর্যবেক্ষণে হাইড্রোজেন সালফাইড বা উদ্বেগজনক অন্য কোনো বায়ু দূষণকারী পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েনি। 

নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং নিজেদের ওয়েবসাইটে জানায়, তারা প্রতিবছর ৮শ’ কোটি একক-ব্যবহারযোগ্য কন্টেইনার উৎপাদন করে। উত্তর আমেরিকা, এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্য সরবরাহ করা হয় বরেও উল্লেখ করা হয়।