বাসস
  ২৯ মে ২০২৬, ১৫:৩৯

কেনিয়ায় শুক্রবার ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র চালু হচ্ছে : যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ২৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত বা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য শুক্রবার কেনিয়ায় একটি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভাইরাসে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে না নেওয়ার সমালোচিত সিদ্ধান্তের পক্ষেও ব্যাখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই কেন্দ্রটি পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার লাইপিকিয়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের কোয়ারেন্টিনে রাখতেই এই কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি জানান, কেন্দ্রটিতে ৫০টি আইসোলেশন বেড থাকবে। এটি পরিচালনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা। তারা বর্তমানে কেনিয়ার পথে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরবর্তীতে সেখানে আরও জনবল যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি চারজন রোগী রাখার সক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি আইসোলেশন ইউনিট এবং দুজন রোগীর জন্য উপযোগী দুটি বায়ো-কনটেইনমেন্ট ইউনিট স্থাপন করা হবে। তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

মূলত কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে যুক্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের সেখানে আলাদা করে রাখা হবে।

কোনো রোগীর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে বা পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হলে তাকে ওই ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হবে। পরে প্রয়োজন হলে ইউরোপের বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রেই যখন এ ধরনের রোগ মোকাবিলার বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে, তাহলে রোগীদের সরাসরি সেখানে নেওয়া হচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল থেকে রোগীদের রক্ষা করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার ফোনে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে রুবিওর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেনিয়ার ইবোলা মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ওয়াশিংটন ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে কেনিয়ার একটি মানবাধিকার সংগঠন বৃহস্পতিবার আদালতে আবেদন করে অভিযোগ করেছে, কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রটি গোপনে ও একতরফাভাবে স্থাপন করা হচ্ছে।

তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কেনিয়া সরকার আগেই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট রুটোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মে মাসের মাঝামাঝি ডিআরসিতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও ২২৩টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মোট নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি।