বাসস
  ২৯ মে ২০২৬, ১৪:৪১

ব্রাজিলের দুই অপরাধী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ২৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : ব্রাসিলিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের কুখ্যাত দুই অপরাধী গোষ্ঠী রেড কমান্ড (সিভি) ও ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ড (পিসিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিভি এবং পিসিসি ব্রাজিলের সবচেয়ে সহিংস দুটি অপরাধী সংগঠন। তাদের প্রভাব ও অবৈধ নেটওয়ার্ক ব্রাজিলের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিস্তৃত।’

তিনি বলেন, ‘দুই গোষ্ঠীর অধীনে হাজার হাজার সদস্য রয়েছে। তারা ব্রাজিলের পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংস হামলা চালিয়েছে।’

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল নেতা ফ্লাভিও বোলসোনারো এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। বোলসোনারো চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল এবং ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়ার মতো অপরাধী চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী তকমা দেওয়া হলে মার্কিন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং বিদ্রোহ দমনের মতো বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি ক্ষমতা পায়।

মধ্য-বামপন্থী সরকার পরিচালিত মেক্সিকো ও ব্রাজিল এই ধরনের ঘোষণার বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে ডানপন্থী সরকার পরিচালিত ইকুয়েডর ও হন্ডুরাস এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনের ঘোষিত পদক্ষেপের দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে পিসিসি ও সিভি-কে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এর ফলে গোষ্ঠীগুলোর নেতা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন।

রুবিও বলেন, আগামী ৫ জুন থেকে ব্রাজিলের উভয় গোষ্ঠীকেই ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ফলে পিসিসি ও সিভি-কে আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের মতো গোষ্ঠীর সমপর্যায়ের হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ব্রাজিলের কারাগারগুলোতে পিসিসি ও সিভি’র উত্থানের পর থেকে কয়েক দশক ধরে দেশটি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

১৯৭০-এর দশকে রিও ডি জেনিরোর কাছে ইলহা গ্রান্দে কারাগারে সিভি’র জন্ম হয়। অন্যদিকে ১৯৯০-এর দশকে সাও পাওলোর কাছের একটি কারাগারে পিসিসি গড়ে ওঠে।

ব্রাসিলিয়া এসব গোষ্ঠীর সহিংসতা স্বীকার করলেও সরকার তাদের রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে না।

ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মাদক ও অপরাধীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এসব গোষ্ঠী বিশ্বের ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সমতুল্য।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কথিত মাদক পাচারকারীদের নৌযানে চালানো বিতর্কিত বিমান হামলার পেছনেও একই নীতি কাজ করছে।

এসব হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বলে মনে করছেন।