শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল মংবওয়ালুতে রোগটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে আতঙ্ক, অন্যদিকে অবিশ্বাস ও সন্দেহও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লরেন সাকিয়া বলেন, প্রতিবেশীদের মৃত্যু দেখার পরই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে ইবোলা সত্যিই রয়েছে। তবে অনেক মানুষ এখনো রোগটির অস্তিত্ব ও সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু সংঘাত-বিধ্বস্ত ইতুরি অঞ্চলে স্বর্ণখনির শ্রমিক ও হকারদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। উগান্ডা সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং অস্থিতিশীল দক্ষিণ সুদান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মংবওয়ালুতে কাদামাখা মোটরবাইকে চলাচলকারী ভ্রমণকারীদের দৃশ্য খুবই পরিচিত।
মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রাদুর্ভাবটি আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা উগান্ডাতেও পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির গুরুতরতা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মংবওয়ালুতে সন্দেহভাজন ৩৩৯ জন রোগীর মধ্যে ৮৮ জন মারা গেছেন। দেশজুড়ে মোট ৮৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২০৪ জন।
২৬ বছর বয়সী সাকিয়া এএফপিকে বলেন, দকর্তৃপক্ষের উচিত আমাদের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া।’
মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে চলমান ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ ইবোলা স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা এখনো নেই।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সপ্তাহান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মে রাজধানী কিনশাসা থেকে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।