শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ আছেন দু’জন। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ‘এই অভিযানে এক পুরুষ মাদক-সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং বাকী দুজন জীবিত রয়েছে।’
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
একই সঙ্গে জীবিতদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানায় সাউথকম।
উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে এএফপি তথ্য চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হয়নি কোস্ট গার্ড।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরণের আরও কয়েক ডজন হামলার পর নতুন এই অভিযান চালানো হল। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন এই অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জন নিহত হয়েছেন।
সামরিক বাহিনী তাদের পোস্টে দাবি করে, লক্ষ্যবস্তু নৌযানটি ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন’ পরিচালনা করছিল এবং এটি মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত রুট ব্যবহার করছিল।
পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ঝাপসা সাদা-কালো ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার আগে নৌকার একটি অংশ একটি বাক্স দিয়ে ঢাকা ছিল। এরপর একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে এবং পানির ওপর ধোঁয়াচ্ছন্ন ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। তবে ফুটেজে জীবিত কাউকে দেখা যায়নি।
‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামের এই অভিযান শুরু হয় গত বছর সেপ্টেম্বরের শুরুতে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন জোর দিয়ে বলেন, লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধ করছে।
তবে তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেনি যে হামলার শিকার নৌকাগুলো সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, এতে এমন বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকির কারণ ছিল না।