বাসস
  ২৪ মে ২০২৬, ১৬:৫৩

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে হজে মুসল্লিদের ঢল

ঢাকা, ২৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এবারের হজ পালনে সৌদি আরবে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ৪৯ বছর বয়সী ফাদেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, যুদ্ধ চললেও তিনি হজে আসার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াতেন না।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছি।’  

কোরআনের একটি আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন। 

ফাদেল বলেন, ‘যুদ্ধ চলতে থাকলেও আমি হজে আসা বাতিল করতাম না।’

পশ্চিমা দেশ থেকে আসা অনেক মুসল্লির মধ্যেই একই ধরনের অনুভূতি দেখা গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও, মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আয়োজন হজে অংশ নিতে তারা সৌদি আরবে আসছেন।

এবারের হজ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যদিও এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তারপরও উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে গত মাসে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হজে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়। 

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যাতায়াতে বিঘেœর কারণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে হজযাত্রীদের যাতায়াত ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে, অনেক মুসল্লির কাছে ইসলামের এই পবিত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের সুযোগ যুদ্ধজনিত অস্থিরতার আশঙ্কার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সপ্তমবারের মতো হজে অংশ নিতে আসা ৪৭ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইয়েদ বলেন, এখানে আসা নিয়ে তার মনে কোনো ‘দ্বিধা’ ছিল না। 

যদিও তার নিজের সরকার নাগরিকদের এ অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে।

সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি এএফপিকে বলেন, যখন কেউ হজে আসার নিয়ত করে, তখন সে আল্লাহর ওপর ভরসা করেই আসে। আর সে কারণেই তিনি এখানে এসেছেন এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখেন যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

হজ সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ লাখের বেশি মুসল্লি মক্কায় জড়ো হয়েছেন। তাদের পোশাক, ব্যাগ ও ছাতায় নিজ নিজ দেশের পরিচয়ও ফুটে উঠছে।

জার্মানির নাগরিক ৬৩ বছর বয়সী ইব্রাহিম দিয়াব বলেন, ‘এ সুযোগ জীবনে একবারই আসে। তাই উপসাগরীয় অঞ্চলের অনিশ্চিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি এটি হাতছাড়া করতে চাইনি।’

তবে অনেক মুসল্লি স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। 

ব্রিটিশ নাগরিক ইমাদ আহমদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম।’

তিনি জানান, জর্ডানের আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় তার সৌদি আরব যাত্রা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়েছিল। 

তবে ইমাদ বলেন, মক্কার উদ্দেশে তার যাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমি হজ পালন করবই।