শিরোনাম

ঢাকা, ৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় ২১ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর ‘চরম ধৃষ্টতার’ তীব্র নিন্দা করেছেন।
তিনি বলেন, রাশিয়া আগামী ৯ মে’র সামরিক কুচকাওয়াজের আগে যুদ্ধবিরতির কথা বললেও, প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মঙ্গলবার জাপোরিঝিয়া, ক্রামাতোরস্ক ও দনিপ্রো শহরে এ সব হামলা চালায় রাশিয়া।
এই হামলা ইউক্রেনের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটেছে।
রাশিয়ার হামলায় জাপোরিঝঝিয়ায় ১২ জন নিহত হয়েছে।
জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘কোনোভাবেই সামরিকভাবে যৌক্তিক নয়’ বলে মন্তব্য করেন।
বুধবার ভোরে, ক্রিমিয়া অঞ্চলের প্রধান জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সেখানে পাঁচ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
গত ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই ফোনালাপে তারা ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ৯ মে’র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয় দিবসের আগে একটি যুদ্ধবিরতির জন্য কিয়েভকে সম্মত হতে বলেছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই এমন হামলা বন্ধ চাই, শুধু কিছু ঘণ্টার জন্য নয়।’
তিনি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
ইউক্রেন জানায়, তারা ৬ মে থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করেছে।
তবে রাশিয়া দনিপ্রো শহরে মঙ্গলবার রাতে আবারও হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির সময় সীমার আগেই সংঘর্ষ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং তারা হামলা আরও বাড়াচ্ছে।’
জেলেনস্কি জানান, দনিপ্রোতে চার জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের কেন্দ্রস্থলে হামলায় আরও পাঁচ জন নিহত হয়েছে।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।
এই হামলাগুলো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
-তীব্র হামলা ও উত্তেজনা-
রাশিয়ার ৯ মে’র প্যারেড বা কুচকাওয়াজ সাধারণত সামরিক শক্তির জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী হয়ে থাকে।
২০২২ সাল থেকে এই আয়োজনকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নাৎসি জার্মানির ওপর বিজয়ের সঙ্গে ইউক্রেন আক্রমণের বিষয়টি যুক্ত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বছর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনুষ্ঠানটি ছোট পরিসরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হবে না।
কুচকাওয়াজের আগে মঙ্গলবার সকালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অপারেটররা জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধ শনিবার পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এতে রাশিয়ার একাধিক তেল স্থাপনা ও মস্কোর একটি বিলাসবহুল উঁচু ভবনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
একে রাশিয়ার হামলার ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে দাবি করছে ইউক্রেন।
স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি বিরল কোনো ঘটনা নয়। যেমন গত মাসে অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে উভয় পক্ষ দূরপাল্লার হামলা স্থগিত করেছিল।
রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার ও পশ্চিমা সামরিক সহায়তা ত্যাগ করতে হবে— যা কিয়েভ ‘আত্মসমর্পণের শর্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।