শিরোনাম

ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস) : আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে জাতিসংঘে সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে জাতিসংঘের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
গুতেরেস দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
তবে এ ধরনের সংস্কারের অগ্রগতি খুবই ধীর, কারণ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ক্ষমতা সীমিত করতে সম্মত না হলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
নাইরোবি থেকে এএফপি জানায়, সাংবাদিকদের গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন, যাতে সেগুলো ৮০ বছর আগের পৃথিবী নয়, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। এর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদও রয়েছে, যেখানে আফ্রিকাকে স্থায়ী আসন থেকে বঞ্চিত রাখা একটি ঐতিহাসিক অবিচার।’
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘কঠিন’।
তবে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
গুতেরেস উদাহরণ হিসেবে বলেন, গণহত্যার মতো চরম পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। কারণ বর্তমানে যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন আমরা দেখছি, তাতে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে। এজন্য একটি কার্যকর নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজন।’
তার এই মন্তব্যের সময় ফরাসি ও কেনিয়ার পররাষ্ট্র কর্মকর্তারাও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
তারা ফ্রান্স ও কেনিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হন। এই সম্মেলনে আফ্রিকার নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গুতেরেস কেনিয়া সফরে গিয়ে জাতিসংঘের নাইরোবি ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের ৩৪ কোটি ডলারের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নিউইয়র্ক ও জেনেভা কার্যালয় থেকে কিছু কার্যক্রম স্থানান্তরের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি অন্যান্য স্থানের তুলনায় কম ব্যয়বহুল... জাতিসংঘের জন্য এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক সিদ্ধান্ত।’
প্রথমে জাতিসংঘের পরিবেশ ও আবাসন সংক্রান্ত আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে জাতিসংঘের ৮০টিরও বেশি কার্যালয় ও ৪ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং আরও কাটছাঁটের হুমকি দিয়েছে। ফলে সংস্থাটির ওপর ব্যয় সংকোচনের চাপ আরও বেড়েছে।