বাসস
  ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৪

যুক্তরাষ্ট্রের সফর বাতিলের পরও পাকিস্তান সফরের কথা ইরানের মন্ত্রীর

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দূতদের পরিকল্পিত সফর বাতিল করলেও শান্তি আলোচনা সচল রাখতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার আবারও পাকিস্তান সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসলামাবাদ থেকে ¦এেফপি জানায়, ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করবেন। সেখানে তিনি ‘যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধে যেকোনো সমঝোতার কাঠামো নিয়ে ইরানের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরবেন।

এর আগের দিনই মন্ত্রী ইসলামাবাদে ছিলেন। পরে তিনি ওমানে যান। অন্যদিকে ইরানের অন্য দূতেরা তেহরানে ফিরে গেছেন ‘যুদ্ধ বন্ধসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়ার জন্য’, জানিয়েছে আইএসএনএ।

শনিবার ইসলামাবাদে ইরান-পাকিস্তান বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দিয়েছিল, ট্রাম্পের শান্তিবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আরও আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

কিন্তু পরে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানান, তিনি সফরটি বাতিল করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘অর্থহীন আলোচনা করতে বসে থাকার কোনো মানে নেই।’ তিনি তেহরানের আলোচনাগত অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একই সঙ্গে বলেন, তার সিদ্ধান্তের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরান তাদের প্রস্তাব সংশোধন করেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা আমাদের এমন একটি নথি দিয়েছিল, যা আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। মজার বিষয় হলো, আমি সফর বাতিল করার ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা নতুন একটি নথি পাই, যা অনেক ভালো।’ তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

‘খুবই ফলপ্রসূ’ 

সফর স্থগিতের অর্থ আবার প্রকাশ্য সংঘাতে ফিরে যাওয়া কি না- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘না, এর অর্থ তা নয়। আমরা এখনো সে বিষয়ে ভাবিনি।’

পরে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারী গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প বলেন, ঘটনাটি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি মনে করেন না। তবে এটি তাঁকে ‘যুদ্ধে জয়ী হওয়া’ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

শনিবার আরাকচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি মাসকাটে যান।

ইসলামাবাদে আলোচনার পর তাঁর মস্কো সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আরাকচি তাঁর প্রথম পাকিস্তান সফরকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন। তবে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আন্তরিক কি না, তা এখনো দেখা বাকি।’

হরমুজ অবরোধ আরও গভীর

তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যুদ্ধ বন্ধের চাপ আরও বেড়েছে।

ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা নেই। এই অবরোধে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

বাহিনীটি তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং এর প্রতিরোধমূলক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও হোয়াইট হাউসের আঞ্চলিক সমর্থকদের ওপর বজায় রাখাই ইসলামী ইরানের চূড়ান্ত কৌশল।’

প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবরোধ, দস্যুতা ও জলদস্যুতা’ অব্যাহত থাকলে তার জবাব দেওয়া হবে।

লেবাননে ইসরাইলি হামলা

যুদ্ধের লেবানন ফ্রন্টে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চলতি সপ্তাহে ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত চারটি স্থানে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বিনত জবেইল জেলার একটি শহরে দ্রুত পরপর দুটি হামলা, সুর জেলার একটি শহরে আরেকটি হামলা এবং নাবাতিয়েহ জেলার আরও দুটি শহরে হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নাবাতিয়েহ ও বিনত জবেইলের হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘অস্ত্রবোঝাই একটি গাড়িতে থাকা’ হিজবুল্লাহর তিন সদস্যকে হত্যা করেছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে থাকা আরও একজন এবং অন্য স্থানে সশস্ত্র আরও দুই সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ইসরাইলি ও লেবানিজ দূতদের সঙ্গে বৈঠকের পর শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

কিন্তু হিজবুল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদ লেবাননকে আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো সমঝোতায় জাতীয় ঐকমত্য থাকবে না।