শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘ সোমবার গাজায় ‘গণহত্যা’ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের’ ইঙ্গিত মেলায় এর নিন্দা জানিয়েছে।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, নতুন এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’, যা বহু ক্ষেত্রে ‘যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের’ শামিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক প্রতিবেদনে ইসরাইলকে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা মেনে গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ইসরাইলকে নিশ্চিত করতে হবে যে ‘তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সামরিক বাহিনী যেন গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয় এবং গণহত্যায় উসকানি প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওই দিন হামাসের নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবেদনে প্রাথমিক হামলা ও পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘গুরুতর লঙ্ঘন’, যার কিছু যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তারও নিন্দা জানানো হয়েছে।
হামাসের হামলায় ইসরাইলি অংশে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব বলছে।
সোমবারের প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মিদের ওপর চালানো নির্যাতনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বহু জিম্মি জানিয়েছেন, তারা মাসের পর মাস ‘অমানবিক পরিস্থিতিতে’ আটক ছিলেন এবং নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গাজায় নিহত অধিকাংশ জিম্মি গোপন আটক কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন—হয় অপহরণকারীদের হাতে, নয়তো আশপাশের সংঘাতের প্রভাবে।’
তবে প্রতিবেদনের বেশিরভাগ অংশই গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে, যেখানে ইসরাইলের পাল্টা সামরিক অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, যাকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের বড় একটি অংশ ‘অবৈধ বলে প্রতীয়মান হয়’।
এতে আরও বলা হয়, ইসরাইল ‘বেসামরিক বা সুরক্ষিত স্থাপনা—যেমন স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান—এবং সাংবাদিক, সিভিল ডিফেন্ডার, স্বাস্থ্যকর্মী, মানবিক সহায়তাকর্মী ও পুলিশসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক ও নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’
গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড ওই ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার জীবনযাত্রাকে ‘ফিলিস্তিনিদের একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে টিকে থাকার অনুপযোগী’ করে তুলেছে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘পশ্চিম তীরে অপ্রয়োজনীয় ও অসম শক্তি প্রয়োগের ফলে শত শত অবৈধ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’
‘গাজা ও পশ্চিম তীর উভয় স্থানেই ইসরাইলি সামরিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক পরিসরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে।’
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ‘গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ইচ্ছাকৃত ও অবৈধভাবে ধ্বংস’ এবং ‘পশ্চিম তীরের উত্তরের শরণার্থী শিবিরগুলোর বড় অংশ খালি ও ধ্বংস’ করার ফলে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এতে ‘জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ইসরাইল এই বাস্তুচ্যুতিকে স্থায়ী করতে চায়।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ইসরাইলের ধারাবাহিক লঙ্ঘনসমূহ সম্মিলিতভাবে ‘ফিলিস্তিনিদের সমষ্টিগত শাস্তি প্রদান’, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’, ‘খালি করে দেওয়া’ এবং ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বড় অংশে জাতিগত নির্মূলের’ একটি ধারা নির্দেশ করে।
এতে আরও সতর্ক করা হয়, ‘ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, অবমাননাকর ও অমানবিক ভাষা ব্যবহারও দেখা গেছে, যার কোনো জবাবদিহি হয়নি।’
মানবাধিকার দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব লঙ্ঘনের জন্য ‘বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারিক সংস্থার মাধ্যমে’ যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
এতে বলা হয়, ‘এদিকে সব প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তদন্ত করতে হবে।’