শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইরান সোমবার জানিয়েছে তারা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, ওয়াশিংটনের দাবিকে ইরানি গণমাধ্যম ‘অতিরিক্ত’ হিসেবে বর্ণনা করলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যুদ্ধ শুরু করে তা শেষ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। তবে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক দফা আলোচনা হয়েছে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গতকাল আমরা যেমন ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমাদের উদ্বেগগুলো আমেরিকান পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতার মাধ্যমে যোগাযোগ ‘অব্যাহত’ রয়েছে।
বাকায়ি ইরানের দাবিগুলোর পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
তিনি বলেন, ‘উত্থাপিত বিষয়গুলো ইরানের দাবি, যা ইরানি আলোচক দল প্রতিটি দফার আলোচনায় দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধটি ছিল ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন’, তাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধক্ষতিপূরণ দাবি করাও যৌক্তিক।
আরেকটি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাকায়ি বলেন, ইরান ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত’।
রোববার ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা জানায়, ওয়াশিংটন পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করতে হবে।
ফার্স আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ সম্পদের ‘২৫ শতাংশও’ ছাড় দিতে রাজি হয়নি এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে তেহরান আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনায় অংশ নিলেই কেবল শত্রুতা বন্ধ করা হবে।
ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা বলেছে, ‘কোনো বাস্তব ছাড় না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে যে ছাড় আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে নিতে চাইছে, যা শেষ পর্যন্ত আলোচনাকে অচলাবস্থায় নিয়ে যাবে।’
গত সপ্তাহে পাঠানো আগের প্রস্তাবে ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল, যার মধ্যে লেবাননে ইসরাইলের অভিযানও রয়েছে। একই সঙ্গে ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
ফার্স জানায়, ওই প্রস্তাবে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথের বড় অংশ কার্যত বন্ধ রেখেছে।
সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়।
পরিষদটি তাদের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ (পিজিএসএ) সম্পর্কিত একটি পোস্ট শেয়ার করে জানায়, সংস্থাটি ‘হরমুজ প্রণালীর কার্যক্রম ও সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তাৎক্ষণিক হালনাগাদ’ দেবে।
এর আগে চলতি মাসে ইরানের ইংরেজি ভাষার সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ‘সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রয়োগের একটি ব্যবস্থা’ গঠন করা হয়েছে এবং প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে নির্দেশনা পাঠানো হবে।
অন্যদিকে সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। অঞ্চলটি ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
আইএসএনএ বার্তা সংস্থার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গার্ড বাহিনী দাবি করে, ‘উত্তর ইরাক থেকে পরিচালিত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের পক্ষে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো’ ইরানে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারের চেষ্টা করছিল।
তারা জানায়, এসব গোষ্ঠীর ওপর কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরানি শহর বানেহতে হামলা চালানো হয়েছে।