শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : সমুদ্রতীরে ভেসে আসা একটি বিশাল তিমির মৃতদেহ খেতে গ্রেট হোয়াইট ও বুল শার্কসহ একদল হাঙ্গরের ভিড় জমেছে। এই পরিস্থিতিতে সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু সমুদ্র সৈকত বন্ধ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণী ও সার্ফ রেসকিউ কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।
সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার উপকূলীয় রয়্যাল ন্যাশনাল পার্কের ‘এরা’ বিচে পাথরের ওপর আট মিটার লম্বা এবং ২৫ টন ওজনের স্পার্ম তিমির মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই সৈকতগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নিউ সাউথ ওয়েলস ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের এরিয়া ম্যানেজার ব্রেন্ডন নিলি বলেন, ‘সেখানে বেশ কিছু গ্রেট হোয়াইট ও বুল শার্ক দেখা গেছে।’
তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘মানুষের কাছে এটি বেশ নাটকীয় বা ভীতি জাগানিয়া মনে হতে পারে। তবে এটি প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। হাঙ্গরগুলো তিমির মৃতদেহটিকে খাদ্যচক্রে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।’
নিলি আরও বলেন, ‘আমি সেখানে সাঁতার কাটতে যাব না, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।’
বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা তিমির মৃতদেহটিকে অপসারণের পরিকল্পনা করছেন।
তবে আগামী মঙ্গলবারের আগে তা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।
‘সার্ফ লাইফ সেভিং এনএসডব্লিউ’ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, হাঙ্গরের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায়, রয়্যাল ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন এরা, গ্যারি, বার্নিং পামস ও ওয়াটামোলাসহ সব সৈকত বন্ধ রাখা হয়েছে।
সার্ফ লাইফ সেভিং এনএসডব্লিউ’র প্রধান নির্বাহী স্টিফেন পিয়ার্স জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এবিসি’কে বলেন, ‘আমরা কাউকে পানিতে নামতে বাধা দিতে পারি না। তবে সেখানে বিপুল সংখ্যক বিশাল আকারের হোয়াইট ও বুল শার্কের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এই মাছগুলোর সঙ্গে একই পানিতে সাঁতার কাটা মোটেও নিরাপদ নয়।’
হাঙ্গরের আক্রমণের তথ্য সংরক্ষণকারী একটি ডেটাবেস অনুযায়ী, ১৭৯১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় হাঙ্গরের কবলে পড়ার প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সবশেষ গত জানুয়ারিতে সিডনি হারবারে হাঙ্গরের আক্রমণে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।