বাসস
  ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৮

মার্কিন কর সংস্থার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ক্ষমতায় থাকা একজন প্রেসিডেন্ট ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন কি না- এই প্রশ্নে আগামী ২৭ মে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা দায়ের করার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ এলো। 

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তার দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র এবং তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে সঙ্গে নিয়ে আইআরএস-এর বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন। 

তার দাবি, ব্যক্তিগত কর-সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে- এই কারণে তিনি ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাইছেন।

চার পৃষ্ঠার একটি নথিতে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ক্যাথলিন উইলিয়ামস মামলার উভয় পক্ষের আইনজীবীদের আগামী ২৭ মে শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই নথিতে বিচারক উইলিয়ামস লিখেছেন, ট্রাম্প বলছেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামলাটি করেছেন, কিন্তু একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টও বটে। আর যে সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলো তারই নির্দেশনার অধীনে পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প নিজেই এ বিষয়ে রসিকতা করেছেন বলেও বিচারক ইঙ্গিত করেন।

মামলায় ট্রাম্প ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আইআরএস-এর দায়িত্ব ছিল তাদের গোপনীয় কর-নথির ‘সংরক্ষণ ও সুরক্ষা’ নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার কর-নথি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। প্রার্থী থাকাকালীন তিনি প্রচলিত রীতি ভেঙে কর-নথি প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আইআরএস-এর সাবেক কর্মচারী চার্লস ‘চাজ’ লিটলজন ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর-নথিগুলো গণমাধ্যমে ফাঁস করে দেন। ২০২৩ সালে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং বর্তমানে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প বারবার কর-নথি প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানো সত্ত্বেও জানা গেছে যে তিনি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ফেডারেল আয়কর হিসেবে মাত্র ৭৫০ ডলার দিয়েছিলেন এবং আগের ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছরই কোনো কর পরিশোধ করেননি।