বাসস
  ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৬

রাজদ্রোহ আইন সংস্কার চেষ্টার অভিযোগে বিরোধী নেতা-এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ থাই আদালতের

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : থাইল্যান্ডের একটি আদালত রাজাকে অবমাননা সংক্রান্ত এক আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় শুক্রবার বিরোধী দলের নেতাসহ ১০ এমপির বিরুদ্ধে করা মামলা গ্রহণ করেছে, তবে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। 

বিরোধী  প্রোগ্রেসিভ পিপলস পার্টি’ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাত্থাফং রুয়েংপানিয়াউত। সংগঠনটির এর আগে রাজদ্রোহ সংক্রান্ত কঠোর আইন লেসে-ম্যাজেস্টে সংশোধনের জন্য খসড়া সংস্কার পেশ করেছিল। জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের এই পদক্ষেপকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

ব্যাংকক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

থাইল্যান্ডের লেজে-মাজেস্টে আইনটি বিশ্বের¦ অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচিত। এই আইনে রাজা, রানি, উত্তরাধিকারী বা রিজেন্টের বিরুদ্ধে অবমাননা, মানহানি বা হুমকির অভিযোগে প্রতিটি ঘটনায় ৩ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় আইনটি প্রয়োগ করা হয়।

২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এ আইনে ২৭০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার আদালত জানায়, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এমপিদের তাৎক্ষণিকভাবে সংসদীয় দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়নি।

তিন বিচারকের বেঞ্চের একজন বলেন, ‘মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।’ তবে আদালত এমপিদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়নি, বলে জানান তিনি।

রায়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নাত্থাফং বলেন, এই আইন সংস্কারের উদ্যোগ ‘রাজতন্ত্রের অধীনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ছিল না। ‘আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বাইরে মানুষের সমতা।’

‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা লড়ব, যাতে গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থায় এমপিদের অধিকার রক্ষা পায় এবং থাইল্যান্ডের গণতন্ত্র সত্যিকারের জনগণের সেবা করতে পারে।’

দোষী সাব্যস্ত হলে নাত্থাফংসহ অপর নয় এমপি আজীবন রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হতে পারেন। পাশাপাশি ১০ বছরের জন্য ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেজে-মাজেস্টে আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে বর্তমান ও সাবেক মোট ৪৪ জন প্রগতিশীল এমপি অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন।

থাইল্যান্ডে সেকশন ১১২ নামে পরিচিত শতবর্ষ পুরোনো এই আইন রাজা ও তার পরিবারকে সমালোচনা থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রতি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

২০২৪ সালে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত পিপলস পার্টির পূর্বসূরি মুভ ফরওয়ার্ড পার্টিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে বলা হয়, তাদের কার্যক্রম সাংবিধানিক রাজতন্ত্র উৎখাতের প্রচেষ্টা ছিল।