শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত এক নিয়োগের অবসান হলো। ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ৪৫ বছর বয়সী গ্যাবার্ড জানান, তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি ‘অত্যন্ত বিরল ধরনের অস্থির ক্যানসারে’ আক্রান্ত হওয়ায় তার সেবাযতেœর জন্য তিনি জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে গ্যাবার্ড বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ সময়ে তার পাশে থাকা এবং এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার জন্য আমাকে সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।’
সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য গ্যাবার্ড হাওয়াইভিত্তিক চিত্রগ্রাহক আব্রাহাম উইলিয়ামসকে হিন্দু রীতিতে বিয়ে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার বিজ্ঞাপন ধারণের সময় তাদের পরিচয় হয় এবং সূর্যাস্তের সময় সার্ফিং করতে গিয়ে উইলিয়ামস তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে গ্যাবার্ডের প্রশংসা করে বলেন, ‘তুলসি অসাধারণ কাজ করেছেন এবং আমরা তাকে মিস করব।’ তিনি আরও বলেন, স্বামীর ক্যানসারের লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তিনি ‘যথার্থভাবেই’ নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জানান, গ্যাবার্ডের ডেপুটি আরন লুকাস ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া প্রভাবশালী নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে গ্যাবার্ড চতুর্থ।
মার্চে ট্রাম্প স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করেন এবং এপ্রিলে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে অপসারণ করেন। একই মাসে একাধিক কেলেঙ্কারির মধ্যে শ্রমমন্ত্রী লোরি শাভেজ-দে-রেমের পদত্যাগ করেন।
তবে গ্যাবার্ডকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এমন প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছে হোয়াইট হাউস।
তার চিফ অব স্টাফ অঅলেক্সা হেনিং এক্সে বলেন, ‘এটি মিথ্যা। তার স্বামী, যিনি অসাধারণ একজন মানুষ, বিরল ধরনের অস্থির ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ড্যাভিস ইঙ্গল বলেন, ‘তার স্বামীর অসুস্থতার কারণে হোয়াইট হাউস তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে এমন কোনো ইঙ্গিতই অপবাদ।’
সাবেক ডেমোক্র্যাট গ্যাবার্ডকে রিপাবলিকান ট্রাম্পের গোয়েন্দাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। কারণ তিনি অতীতে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সমর্থন করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন।
কংগ্রেস সদস্য থাকাকালে গ্যাবার্ড বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন।
২০১৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত সিরীয় নেতা বাশার আল-আসাদের সঙ্গে তার বৈঠক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রচারণা ও ভুয়া ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
মার্কিন সরকারের নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে তার অবস্থান এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) তথ্যফাঁসকারী অ্যাডোয়ার্ড স্লোডেনের প্রতি সমর্থনের কারণেও অনেকের সন্দেহের নজরে ছিলেন তিনি।
এসব বিতর্ক সত্ত্বেও ট্রাম্প তার নিয়োগ বহাল রাখেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তাকে ক্রমেই দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর ঠিক আগে ট্রাম্প যখন শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন সেখানে গ্যাবার্ড উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও তিনি বারবার ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুদ্ধের যৌক্তিকতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বা পুরোপুরি সমর্থন দেননি।
গ্যাবার্ড ট্রাম্পের এই দাবি সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানান যে ইরান তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল, যে যুক্তিকে হামলার প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস হওয়া পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ইরান পুনর্গঠন করছিল না। অথচ এটিও যুদ্ধের একটি বড় যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা গ্যাবার্ড আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য হিসেবে ইরাকে দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ বিদেশি যুদ্ধগুলোর বিরোধিতায় প্রভাবিত করে। একইভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পেন্টাগন প্রধান পিট হিগসেখও একই অবস্থান নিয়েছেন।
গ্যাবার্ডের মা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলেও হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং সন্তানদের সেই ধর্মীয় ঐতিহ্যে বড় করে তোলেন। ‘তুলসি’ নামটি হিন্দুধর্মে পবিত্র একটি উদ্ভিদের নাম এবং তিনি আজীবন নিরামিষভোজী।