বাসস
  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৪

শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর জাতিসংঘ নেতৃত্বপ্রার্থীদের

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আগামী জাতিসংঘ মহাসচিব পদের প্রার্থীরা একটি শান্তিকেন্দ্রিক ও আস্থাশীল জাতিসংঘ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তারা এমন কোনো অবস্থান নিতে এড়িয়ে গেছেন, যা সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিরোধ তৈরি করতে পারে।

নিউইয়র্ক থেকে এএফপি জানায়, চিলির মিশেল বাচেলেত, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টা রিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল- এই চারজন ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন।

১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে তারা প্রত্যেকে তিন ঘণ্টা করে বক্তব্য দেন।

তবে আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর রিচার্ড গোয়ান বলেন, অনেক কূটনীতিকই এই শুনানিগুলো নিয়ে সন্দিহান। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা (যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) মূলত পর্দার আড়ালে সিদ্ধান্ত নেয়, আর সাধারণ পরিষদের ভূমিকা সীমিত।

প্রার্থীরা জাতিসংঘকে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলার ওপর জোর দেন। সংস্থাটি বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

বাচেলেত ও গ্রোসি উভয়েই বলেন, ভবিষ্যৎ মহাসচিবকে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল বলেন, জাতিসংঘকে ‘নতুনভাবে পুনর্গঠন’ করতে হবে, যাতে এটি আবার বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে ফিরে আসতে পারে।

রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেন, পরবর্তী মহাসচিবকে ঝুঁকি নিতে হবে, কারণ সংস্থাটি বর্তমানে ‘অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়ানোর মানসিকতায়’ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ তখনই ব্যর্থ হয় যখন চেষ্টা করা হয় না।

ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত প্রসঙ্গে গ্রিনস্প্যান বলেন, মানবিক সহায়তার ‘নির্বিঘ্ন প্রবেশ’ নিশ্চিত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

সাল এই সংঘাতকে ‘মানবিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রার্থীদের পূর্ববর্তী অবস্থানও চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা বাচেলেতের প্রার্থিতার বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত সংবেদনশীল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা এখনো তাদের অবস্থান প্রকাশ করেননি এবং আরও প্রার্থী সামনে আসতে পারে।