বাসস
  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৪

সাংবাদিক নিহত হওয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ লেবাননের

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলায় এক সাংবাদিক নিহত হওয়ার পর ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে অভিযোগ করেছে লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে।

বৈরুত থেকে এএফপি জানায়, উদ্ধারকর্মী এবং নিহত সাংবাদিকের কর্মস্থল নিশ্চিত করেছে যে আল-আখবার দৈনিকের ৪২ বছর বয়সী সাংবাদিক আমাল খলিল বুধবার দক্ষিণ লেবাননের একটি বাড়িতে হামলায় নিহত হন।

সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তিনি আল-তিরি গ্রামে একটি বাড়িতে হামলার সময় নিহত হন।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে তাদের অপরাধ আড়াল করতে সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে।’ তিনি এটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ঘধধিভ ঝধষধস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া যুদ্ধাপরাধের শামিল।’ তিনি জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা হবে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘ঘটনাটি এখনো পর্যালোচনাধীন।’

লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলমান রয়েছে, যা ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ সাময়িকভাবে থামিয়েছে। এই সংঘাতে লেবাননে ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, আল-তিরি গ্রামে হামলার আগে একটি গাড়িতে আঘাত করা হয়, যেখানে দুইজন নিহত হন। পরে ওই এলাকায় আশ্রয় নেওয়া সাংবাদিকদের অবস্থানস্থলেও হামলা চালানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সাংবাদিক জাইনাব ফারাহ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং খলিল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তারা ফারাহকে উদ্ধার করতে পারলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে খলিলকে উদ্ধার করতে পারেনি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকর্মীরা খলিলের মরদেহ উদ্ধার করে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইসরাইল উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে এবং রেড ক্রস চিহ্নিত অ্যাম্বুলেন্সকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্থাপনা থেকে বের হওয়া দুটি গাড়ি শনাক্ত করেছিল এবং পরে ‘সন্ত্রাসীদের’ বহনকারী একটি গাড়িতে হামলা চালায়।

ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করেছে, যেখানে তাদের সেনারা অবস্থান করছে এবং বাসিন্দাদের ফিরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো ইসরাইলের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের মধ্যপ্রাচ্য ডেস্কের প্রধান জনাথন ডাগার বলেছেন, হামলার ধারাবাহিকতা ‘যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত দেয়।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবানন গবেষক রামজি কাইস বলেন, সাংবাদিক আমাল খলিলের হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ।’

এর আগে মার্চ মাসে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হন। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।