বাসস
  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৭

শান্তি ও আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব পদপ্রার্থীরা

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদপ্রার্থীরা এ সপ্তাহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। 

তবে যেসব সদস্য রাষ্ট্র পরবর্তী প্রধান নির্বাচন করবে, তাদের অসন্তুষ্ট করতে পারে— এমন অবস্থান থেকে তারা বিরত থাকেন।

চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান ও সেনেগালের ম্যাকি সাল— সকলেই ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আন্তোনিও গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আশা করছেন। 
ওই দিন গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রত্যেক প্রার্থী এ সপ্তাহে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে তিন ঘণ্টা করে সময় দেন।

তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিচার্ড গোয়ান এএফপিকে বলেন, ‘অনেক কূটনীতিক এসব শুনানি নিয়ে কিছুটা সংশয়ী।’

তিনি বলেন, ‘ধারণা রয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলো গোপনে বিজয়ী নির্ধারণ করবে এবং সাধারণ পরিষদের ভূমিকাকে সীমিত রাখবে।’

‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ’ নামে প্রশ্নোত্তর পর্বটি ২০১৬ সালে চালু হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, মহাসচিব নির্বাচন করা হয় নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে। 

পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য— যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন ও ফ্রান্স— ভেটো ক্ষমতা রাখে।

গোয়ানের মতে, প্রার্থীদের অনেক বক্তব্যই ছিল ‘রুটিনধর্মী’। তবে তারা কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ দিয়েছেন।

গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে জাতিসংঘ নাজুক অবস্থায় রয়েছে’ এবং সংস্কারের প্রশ্নে তিনি গুতেরেসের তুলনায় বেশি ‘কঠোর’ অবস্থানে ছিলেন।

সব প্রার্থীই আর্থিক সংকটের মুখে থাকা জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জরুরি প্রয়োজনের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ মাত্রার সশস্ত্র সংঘাতের মুখে বিশ্বে সংস্থাটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান ব্যাচেলেট বলেন, যেখানে সমস্যা, সেখানে মহাসচিবের সরাসরি উপস্থিত থাকা উচিত। গ্রোসিও একই মত দেন।

সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাল বলেন, জাতিসংঘকে ‘পুনর্গঠিত ভূমিকা’ নিতে হবে, যাতে সংস্থাটি আবার ‘বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান ফিরে পায়।’

ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থতার জন্য গুতেরেসের সমালোচনাও করা হয়।

গ্রিনস্প্যান বলেন, পরবর্তী মহাসচিবকে ‘ঝুঁকি নিতে হবে।’ 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা একটি ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সংগঠনে পরিণত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা না করলেই কেবল জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়, আমাদের চেষ্টা করতেই হবে।’ 

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি সহজ করতে যে চুক্তি হয়েছিল, তা সম্পাদনে গ্রিনস্প্যান ভূমিকা রেখেছিলেন।

—অপেক্ষায় আরও প্রার্থী-
প্রার্থীরা স্বীকার করেন, শান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়ন— এই তিন স্তম্ভের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। তবে তারা প্রথম স্তম্ভ, অর্থাৎ শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের প্রধান ভূমিকার ওপর জোর দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘকে তার মূল লক্ষ্য অর্থাৎ শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

খুব কম প্রশ্নই নির্দিষ্ট সংঘাত নিয়ে করা হয়। প্রার্থীরাও সরাসরি জবাব না দিয়ে, জাতিসংঘ সনদের প্রতি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

তবে গাজা প্রসঙ্গে গ্রিনস্প্যান ‘অবাধ’ মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানান এবং ‘শান্তি ও নিরাপত্তায়’ দুই রাষ্ট্রের সহাবস্থানের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পক্ষে মত দেন।

সাল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রার্থীদের অতীত অবস্থান ও কর্মকাণ্ড চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

গর্ভপাতের অধিকার সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ব্যাচেলেটকে আটকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বর্তমান প্রধান গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও জড়িত।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। আরও প্রার্থী সামনে আসতে পারেন।

গোয়ান বলেন, ‘এখনো অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।’