বাসস
  ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০

মেক্সিকোর পর্যটন কেন্দ্রে গোলাগুলি : কানাডীয় পর্যটক নিহত, আহত ১৩

ঢাকা, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মেক্সিকোর বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান তেওতিহুয়াকানে সোমবার এক বন্দুকধারীর গুলিতে এক কানাডীয় নারী নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দেশটির মেক্সিকো রাজ্যের সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টোবাল কাস্তানেদা জানান, জনপ্রিয় এ পর্যটনকেন্দ্রে গুলি চালানোর পর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে। তার পরিচয় বা নাগরিকত্ব জানা যায়নি। প্রি-অ্যাজটেক যুগের পিরামিডসমৃদ্ধ এ ঐতিহাসিক স্থানটি মেক্সিকো রাজ্যে অবস্থিত।

গুলিতে আহত ছয়জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এক কানাডীয় নারী, এক কলম্বিয়ান নারী ও একটি শিশু, একজন ব্রাজিলীয় এবং দুইজন মার্কিন নাগরিক।

এছাড়া প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপের সময় আরও সাতজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন এক রুশ, এক কলম্বিয়ান, এক ব্রাজিলীয় এবং চারজন মার্কিন নাগরিক।

দুপুরের এ হামলায় বিশ্ববিখ্যাত পর্যটনস্থলটিতে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, আর মাত্র দুই মাস পর মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল।

এএফপিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি মরদেহ পিরামিডের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ছুরি এবং অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করেছে। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পর্যটন কর্মকর্তারা জানান, মেক্সিকো সিটির কাছে অবস্থিত ২ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এ পিরামিড নগরী ২০২৫ সালে ১৮ লাখের বেশি পর্যটক আকর্ষণ করেছে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘বন্দুক সহিংসতার এক ভয়াবহ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের সহায়তায় অতিরিক্ত জনবল পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তেওতিহুয়াকানে যা ঘটেছে তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।’

মেক্সিকো সিটি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তেওতিহুয়াকান তার পিরামিড ও ‘অ্যাভিনিউ অব দ্য ডেড’-এর জন্য বিখ্যাত।

গুলির ঘটনা ঘটে ‘পিরামিড অব দ্য মুন’-এ। প্রায় ৪৫ মিটার উঁচু এ পিরামিডে দর্শনার্থীরা খাড়া পাথরের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে পারেন।

ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, পিরামিডের মাঝামাঝি অবস্থান থেকে হামলাকারী পিস্তল দিয়ে গুলি চালাচ্ছে। অনেক পর্যটক সিঁড়ির আড়ালে আশ্রয় নেন, অন্যরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।

একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন আমাদের ওপর গুলি চালাচ্ছে, সাবধান থাকুন।’

আরও কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত চালাচ্ছেন।

জাতিসংঘের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকাটি প্রথম থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। মেক্সিকোর প্রায় ২০০টি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও কয়েক দশকের মধ্যে এটিই প্রথম সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনা।

মেক্সিকোতে মাদক গ্যাং-সংক্রান্ত সহিংসতা নিয়মিত ঘটনা হলেও সাধারণ মানুষের ওপর এমন নির্বিচার গুলি চালানোর ঘটনা বিরল। আগামী জুন মাসে বিশ্বকাপের জন্য মেক্সিকো ৫৫ লাখেরও বেশি পর্যটক আশা করছে।

আমেরিকান পর্যটক আনা ডুরমন্ট এএফপিকে বলেন, তিনি পিরামিডের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স দেখে চমকে যান। তিনি জানান, তারা শুরুতে ভাবতেই পারেননি এমন কোনো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, কারণ চারপাশ ছিল বেশ শান্ত।