শিরোনাম

ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য লুইসিয়ানায় রোববার ভোরে এক ব্যক্তি পারিবারিক সহিংসতার জেরে আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাত জনই ওই ব্যক্তির নিজের সন্তান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ-এর তথ্য অনুযায়ী, লুইসিয়ানার শ্রেভপোর্ট শহরের একটি ধূসর রঙের বাড়িতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড গত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
এই ঘটনায় দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিহত শিশুদের কয়েকজনের মাও রয়েছেন।
তবে কয়জন শিশুর মা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
পুলিশ বন্দুকধারীকে ৩১ বছর বয়সী শামার এলকিন্স হিসেবে শনাক্ত করেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর শামার একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে ধাওয়া করে এবং এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশের কর্পোরাল ক্রিস বোরডেলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধাওয়া করার এক পর্যায়ে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের কর্মকর্তারা তাকে নিবৃত্ত (হত্যা) করতে বাধ্য হন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপি’র একজন ভিডিওগ্রাফার ছোট দুই তলা বাড়ির সাদা দরজায় পাঁচটি বুলেটের ছিদ্র দেখতে পান। শোকাহত শুভাকাক্সক্ষীরা বাড়ির পাশে বেশ কিছু ফুলের তোড়া রেখে গেছেন।
বোরডেলন বলেন, নিহত শিশুদের বয়স ১৮ মাস থেকে ১২ বছরের মধ্যে এবং আট জনের মধ্যে সাত জনই ছিল শুটারের নিজের সন্তান।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সক্রিয়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন এই ঘটনা ঘটল তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। তিনটি বাড়ি জুড়ে বিস্তৃত এই অপরাধস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে তিনি ‘পারিবারিক কলহ’ বলে অভিহিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, এলকিন্স ২০১৯ সালে একটি আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে তার অতীতে পারিবারিক সহিংসতার অন্য কোনো ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ অবগত ছিল না।
শহরটির মেয়র টম আর্সেনো সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। নিহতদের সবাই শিশু হওয়াতে বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও পীড়াদায়ক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীতে এখনও অশুভ শক্তি বিরাজমান।’
মেয়র আরও বলেন, বন্দুকধারী যে দ্বিতীয় বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলেন, সেখানে মোট নয় জন শিশু ছিল। তাদের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে গেছে এবং সে এখন আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এবিসি’র সহযোগী গণমাধ্যম কেটিবিএস জানিয়েছে, দুই নারীর মাথায় গুলি করা হয়েছে।
পুলিশ এএফপিকে জানায়, মুখমণ্ডলের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ এক নারী প্রতিবেশীর সহায়তায় ভোর ৫টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে জরুরি সেবা ৯১১-এ কল দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন।
লুইসিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি বলেছেন যে তিনি এই ঘটনায় ‘মর্মাহত’।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন, যিনি শ্রেভপোর্টে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এই অঞ্চলের কংগ্রেস সদস্য এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই ঘটনাকে একটি ‘অর্থহীন ট্র্যাজেডি’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।
সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়, এমন দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই বন্দুক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।
উন্নত দেশগুলোর মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র জনিত মৃত্যুর হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি।