বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৫

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া শুরু

ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই ফিলিপাইনে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন। 

এ বছর প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাপানি সেনাও এতে অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এই মহড়ায় ফিলিপাইনের উত্তরের তাইওয়ান প্রণালির দিকে মুখ করা এলাকায় সরাসরি গোলাবর্ষণের (লাইভ-ফায়ার) মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। 

পাশাপাশি বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরের কাছাকাছি একটি প্রদেশেও মহড়া চালানো হবে। এখানে ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে বারবার উত্তেজনা দেখা গেছে।

মহড়ার মুখপাত্র কর্নেল ডেনিস হার্নান্দেজ জানান, জাপান প্রায় ১ হাজার ৪০০ সেনা পাঠাচ্ছে এবং তারা উত্তরাঞ্চলের পাওয়াই উপকূলে টাইপ-৮৮ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি লক্ষ্যবস্তু জাহাজ ডুবানোর অনুশীলন করবে।

‘বালিকাতান’ বা ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ নামে পরিচিত এই ১৯ দিনের মহড়ায় ১৭ হাজারের বেশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য অংশ নিচ্ছেন। 

গত বছরের মতোই এবারের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় একই। এতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স ও কানাডার বাহিনীও যুক্ত রয়েছে।

আজ সোমবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মার্কিন মহড়ার মুখপাত্র কর্নেল রবার্ট বান বলেন, ‘বালিকাতান আমাদের ফিলিপাইনের সঙ্গে দৃঢ় জোটের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার মাধ্যম।’ 

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও এ মহড়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় মোতায়েন হিসেবে উল্লেখ করেন। 

যদিও তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি।

এই মহড়া এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত শুরু হয়।

এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যা আমদানি নির্ভর ফিলিপাইনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে, চীন তাইওয়ান ঘিরে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে দেশটির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস গত নভেম্বরে বলেন, তার দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘তাইওয়ানকে ঘিরে যুদ্ধ হলে, ফিলিপাইন অনিচ্ছা সত্ত্বেও এতে জড়িয়ে পড়বে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের মাঝখানে অবস্থিত বাশি চ্যানেলের আকাশে যৌথ টহল চালায়। 

এর মাধ্যমে জটিল সামুদ্রিক পরিবেশে তারা কতটা সমন্বিতভাবে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তা যাচাই করা হয় বলে জানায় ম্যানিলা।

প্রেসিডেন্ট মার্কোস মনে করেন, ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। চীনকে প্রতিরোধে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছেন।

গত দুই বছরে ফিলিপাইন জাপান, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও ফ্রান্সের সঙ্গে ভিজিটিং ফোর্সেস বা সমজাতীয় চুক্তি সই করেছে, যাতে এ সব দেশের সেনারা সহজে যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে পারে।

মার্কিন বাহিনী চাইলে টমাহক ও এনএমইএসআইএস জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে, তবে তা ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানান মহড়ার মুখপাত্র কর্নেল বান।

এছাড়া সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হবে, যার মধ্যে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিও রয়েছে বলে জানান মহড়ার মুখপাত্র কর্নেল হার্নান্দেজ।

তিনি আরও বলেন, লুজন দ্বীপের আশপাশের নির্দিষ্ট না করা জলসীমায় এক সপ্তাহব্যাপী নৌ মহড়াও অনুষ্ঠিত হবে।

জাপান এ মহড়ায় একটি ট্যাংক ল্যান্ডিং জাহাজ, একটি ডেস্ট্রয়ার ও একটি হেলিকপ্টার ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র একটি কাটার ও একটি ডক ল্যান্ডিং জাহাজ ব্যবহার করবে। 

এগুলো ফিলিপাইনের দুটি ফ্রিগেট ও কানাডার একটি ফ্রিগেটের সঙ্গে যোগ দেবে।