শিরোনাম

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে হামলার পর ছয় সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ব্যাপক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়মুক্তির অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি করেছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থার প্রধানরা বলেন, তারা এ অঞ্চলে ‘যুদ্ধের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বিগ্ন’।
জাতিসংঘের আন্তঃসংস্থা স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধেরও নিয়ম আছে, এবং এই নিয়মগুলো অবশ্যই মানতে হবে।’
এই যৌথ বিবৃতিটি তৈরি করেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এবং মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শরণার্থী ও শিশু বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ‘শুধু গত এক মাসেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, অনেকেই একাধিকবার।’
‘সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং মৌলিক সেবাগুলোতে প্রবেশাধিকার ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। স্কুলে হামলা হয়েছে। সেতু, আবাসিক ভবন, ঘরবাড়ি, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।’
সংস্থাগুলোর প্রধানরা বিশেষভাবে নারী, শিশু এবং বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন মানুষের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ছে এবং ‘খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ছে’ বলে উল্লেখ করা হয়।
তারা আরও জানান, ‘আমাদের মানবিক সহায়তাকর্মীরাও এই সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ১৪ জন, ইরানে ৮ জন এবং লেবাননে ৫ জন সহায়তাকর্মী নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
‘এটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মানবিক সহায়তাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সব ধরনের হামলার নিন্দা জানাই।’
‘আমরা দাবি করছি, জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হোক বা সশস্ত্র গোষ্ঠী-সব পক্ষ যেন বেসামরিক নাগরিক, মানবিক কর্মী ও অবকাঠামো রক্ষার আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলে।’
পরিশেষে তারা জোর দিয়ে বলেন, ‘সব ধরনের নিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’