শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের প্রাক্কালে রাশিয়া মঙ্গলবার তিন দিনের পারমাণবিক অস্ত্র মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে।
ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা অভিযানের পুরো সময়জুড়ে মস্কো নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে বারবার এসব অস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও দিয়েছে। মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি ভেঙে পড়ার কয়েক মাস পর এই মহড়া শুরু হলো। এর পাশাপাশি সম্প্রতি পুতিনও রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘১৯ মে থেকে ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত রুশ ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তির প্রস্তুতি ও ব্যবহারের বিষয়ে মহড়া পরিচালনা করছে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিউ স্টার্ট চুক্তির সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ নানা বিধিনিষেধ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত হয়ে যায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মহড়ায় ৬৫ হাজারের বেশি সেনা এবং সাত হাজার ৮০০ ধরণের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে।
মহড়ায় যুদ্ধবিমান, জাহাজ, সাবমেরিন ও পারমাণবিক সাবমেরিন অংশ নেবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও করা হবে।
তারা জানায়, ‘বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্রের যৌথ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়গুলোও এই মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
রাশিয়া তাদের মিত্র বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তঘেঁষা অবস্থানে রয়েছে বেলারুশ।
পুতিনের দুই দিনের চীন সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মস্কো এই মহড়ার ঘোষণা দেয়।