বাসস
  ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৮

ট্রাম্পের আল্টিমেটামের সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই তেহরানে নতুন হামলা

ঢাকা, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ট্রাম্পের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে মঙ্গলবার তেহরানে নতুন করে হামলা হয়েছে। কোনোভাবেই পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না ইরানের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি জিএমটি মধ্যরাতের মধ্যে কৌশলগত তেলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ ডেকে আনবে।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মেতানাত এএফপি’কে বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত। দেশের অন্য সবারও হওয়া উচিত।’ 
তার এক সহপাঠী দুই সপ্তাহ আগে এক হামলায় নিহত হয়েছেন।

২৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী নামের শেষ অংশ প্রকাশ করতে চাননি। 

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম নিয়ে ‘অনেকে এটিকে মজা ভাবছে।’ 

মেতানাত  বলেন, ‘তবে, মৃত্যু কোনো মজা নয়।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা ‘সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় পর ইরানি সেনাবাহিনী ট্রাম্পের ‘অহংকারী বক্তব্য ও ভিত্তিহীন হুমকি’ উড়িয়ে দিয়েছে। 

তারা বলেছে, এ সব তাদের কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা না হলে  ‘ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস হয়ে যাবে’ এবং ‘প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অচল হয়ে যাবে, আগুনে পুড়বে, বিস্ফোরিত হবে এবং আর কখনো ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।’

এ সব হামলা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে কি না— এমন প্রশ্ন তিনি উপেক্ষা করেন।

এ সব হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠতে পারে।

৬২ বছর বয়সী ইরানি পেনশনভোগী মোর্তেজা হামিদি বলেন, ট্রাম্প আগেও বহুবার পিছু হটেছেন। আর তাই তার হুমকিকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এ সব হুমকিতে অভ্যস্ত।’

হামিদি আরও বলেন, ‘তবে, যুদ্ধের পর দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি হতাশ।’

মঙ্গলবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরানিদের গ্রিনীচ মান সময় ১৭৩০টা পর্যন্ত ট্রেনে না ওঠার পরামর্শ দেয়।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযোগকারী কিং ফাহদ সেতুতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

-বিস্ফোরণ-

মঙ্গলবার তেহরানজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরের উত্তরাংশে বিস্ফোরণের ঘটনা লক্ষ্য করেন এএফপি সাংবাদিকরা।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়,‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় রাজধানীর রাফি-নিয়া সিনাগগ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের শাসনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দিনের শুরুতেই রাজধানী ও পাশের কারাজ শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

পরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তারা শনাক্ত করেছে ও তা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

গত রাতে হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের জুবাইল শহরের শিল্পাঞ্চলে একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। 

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের অনুরূপ স্থাপনাতেও হামলা হয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যত্র বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার সকালে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।

-যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ-

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবিত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও ইরান— উভয় পক্ষই।

আগে ট্রাম্প এ প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ বললেও পরে জানান, এটি যথেষ্ট নয়। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক এ প্রস্তাবে মধ্যস্থতা করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তেহরানও যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা সংঘাতের চূড়ান্ত সমাপ্তি চায়।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী ইরান প্রণালী খুলে দেবে এবং প্রতি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি নেবে, যা প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ভাগ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো সিনা তুসি বলেন, ‘অবকাঠামো যুদ্ধ আসছে না, এটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তেহরান তার মূল স্বার্থ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, কোনো মূল্যেই ছাড় দেবে না।

কূটনৈতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার ইরানের হুমকি নিয়ে একটি হালকা প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগের কঠোর খসড়াগুলো ভেটোর মুখে পড়তে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র এএফপি’কে জানিয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। 

বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।