শিরোনাম

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ শুরুর পরপরই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে মসজিদ ভবনটি কেঁপে ওঠে এবং কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারান। ঘটনার সময় উপস্থিত এক মুসল্লি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
৫২ বছর বয়সী মুহাম্মদ কাজিম এএফপি’কে জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার (স্থানীয় সময়) কিছুক্ষণ পর তিনি ইমাম বারগাহ কাসর-এ-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে পৌঁছান। তিনি ইমামের পেছনের সাত বা আট নম্বর কাতারে নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন।
চিকিৎসার জন্য আহতদের যেখানে নেওয়া হয়েছে, সেই পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘নামাজের প্রথম রাকাতের সিজদার সময় আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখনো সিজদারত ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।’
গিলগিট-বালতিস্তানের বাসিন্দা কাজিম বর্তমানে ইসলামাবাদে থাকেন। বিস্ফোরণে তিনি অক্ষত থাকলেও তার এক আহত বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।
কাজিম বলেন, ‘এটি আত্মঘাতী হামলা কি-না তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। তবে বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদের ছাদ থেকে ধ্বংসাবশেষ ভেঙে পড়ে এবং জানালার কাঁচ চুরমার হয়ে যায়। বাইরে বের হয়ে দেখি চারদিকে লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বহু মানুষ মারা গেছেন।’
জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইমরান মাহমুদ নামে অন্য এক মুসল্লি জানান, হামলাকারী এবং তার এক সহযোগীর সঙ্গে মসজিদের স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা কর্মীদের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছিল।
পঞ্চাশোর্ধ্ব ইমরান এএফপি’কে বলেন, ‘আত্মঘাতী হামলাকারী সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন আমাদের একজন আহত স্বেচ্ছাসেবক পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলিটি হামলাকারীর উরুতে লাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলাকারী পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে থাকা অন্য একজন আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর হামলাকারী মূল গেটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের দেহে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।’
শনিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৬৯ জন আহত হয়েছেন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেলে ভয়াবহ ট্রাক বোমা হামলায় ৬০ জন নিহত হয়। এরপর গত দুই দশকের মধ্যে এটিই রাজধানী ইসলামাবাদে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
বিস্ফোরণের পরবর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে কাজিম জানান, অক্ষত মুসল্লিরাই প্রথমে আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষ নিজেদের উদ্যোগে নিজেদের গাড়ির পেছনে করে দুই-তিনটি করে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্স আসতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট দেরি হয়েছিল। এরপর কাউকে আর মসজিদের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি।’
গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে এই মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছেন কাজিম। তার মতে, মসজিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত ঢিলেঢালা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কখনোই সেখানে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখিনি। স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের মতো করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই কাজ ভালোভাবে করার জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই।’
কাজিম আরও বলেন, ‘শিয়া মসজিদগুলো সব সময়ই হুমকির মুখে থাকে। সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।’