শিরোনাম

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘নতুন অগ্রগতি’ হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
একই সময়ে স্থানীয় এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের জন্য মানবিক সহায়তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়াকে সংলাপে আনতে সিউল উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কিছু নতুন অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপ্রিলে নির্ধারিত চীন সফর প্রসঙ্গে কথা বলার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা এ কথা জানান।
দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংকে নিষিদ্ধ পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।
এই কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর একের পর এক জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গত বছর এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প বারবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে বসতে তিনি ‘শতভাগ’ প্রস্তুত। এমনকি কয়েক দশকের মার্কিন নীতি থেকে সরে এসে উত্তর কোরিয়াকে ‘এক ধরনের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র’ বলেও স্বীকার করেন।
তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি উত্তর কোরিয়া। দেশটি বারবার বলেছে, তারা কখনোই তাদের পরমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
সিউলের নাম প্রকাশ না করা সরকারি সূত্রের বরাতে দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক ডং-এ ইলবো শুক্রবার জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭১৮ কমিটিকে উত্তর কোরিয়ার জন্য মানবিক সহায়তা প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০০৬ সালে রেজোলিউশন ১৭১৮ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৭১৮ কমিটি ডেমোক্র্যাটিক পিপল রিপাবলিক অব কোরিয়া (ডিপিআরকে)’র বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তদারকি করে। এটি পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পরিচালনা করে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্মতি রিপোর্ট করতে ও মানবিক ছাড় সক্ষম করতে বাধ্য করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দক্ষিণ কোরিয়ার এনজিওগুলো উত্তর কোরিয়ায় খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারবে। দারিদ্র্যপীড়িত দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। প্রথম মেয়াদে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির চেষ্টা চালাতে গিয়ে তিনি একবার প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ‘ভালোবাসা’ তৈরি হয়েছে।
তবে ২০১৯ সালে হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকটি ব্যর্থ হয়। পিয়ংইয়ং কী পাবে, আর তার বিনিময়ে কী দেবে— এই নিয়ে মতভেদের কারণে দুই দেশের মধ্যে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিউল ও ওয়াশিংটন আবারও উত্তর কোরিয়ার ‘সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে’ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন পরিকল্পনায় সহযোগিতার কথাও জানানো হয়।
এর আগে এ ধরনের উদ্যোগে পিয়ংইয়ং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া শিগগিরই ক্ষমতাসীন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস (সম্মেলন) আয়োজন করতে যাচ্ছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই হবে দলটির প্রথম কংগ্রেস।
এই সম্মেলনের আগে কিম দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ‘সম্প্রসারণ’ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।